জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ২৫তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মো. মারুফ আল হাসান।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নিলে তার ডান হাতের কবজির ওপর একটি গুলি লাগে বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন মারুফ।
তিনি বলেন, তিনি এখনো চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখনো ডান হাতে স্বাভাবিকভাবে তিনি কাজ করতে পারেন না।
Advertisement
ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ। আসামিদের সবাই পলাতক।
জবানবন্দিতে মারুফ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে রাজশাহীর তালাইমারী মোড়ে তারা বিক্ষোভ মিছিলের জন্য একত্র হন। দুপুর ১টার দিকে মিছিলটি সাহেববাজার জিরো পয়েন্টের দিকে যাওয়ার সময় আলুপট্টি মোড়ে স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা করে। সেখানে তাদের অনেকে আহত ও গুলিবিদ্ধ হন।
কিছু সময়ের জন্য তারা পিছু হটতে বাধ্য হন উল্লেখ করে মারুফ বলেন, পরে তারা সংগঠিত হয়ে সামনের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশ তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে সমন্বিত হামলা করে। তখন একটি গুলি তার ডান হাতের কবজির ওপরে লাগে।
এ ঘটনার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস, মাইনুল হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, শেখ ওয়ালী আসিফ, রাজশাহীর রুবেল ও রোজেলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন মারুফ।
Advertisement
মারুফের বাড়ি রাজশাহীর বোয়ালিয়ায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় লেখাপড়া শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছিলেন তিনি। এছাড়া একটি ছোট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
এফএইচ/বিএ