রাজনীতি

সাক্ষাৎকারেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নারী এমপি বাছাইয়ে কঠিন ফিল্টারে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য কারা হবেন তা নির্ধারণে চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Advertisement

সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের প্রার্থীদের মূলত দুটি প্রশ্ন করেছেন—মনোনয়ন পেলে কী করবেন, না পেলে কী করবেন? দল আপনাকে কেন মনোনয়ন দেবে? এর উত্তরের নারী নেত্রীরা বিগত সময়ে দলের ভূমিকা, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের অবদান ও দেশ গঠনে আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছেন। মনোনয়ন পুরো বিষয়টি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বেলা সাড়ে ৩টায় দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা। এটি রাত পর্যন্ত চলে। প্রথম দিনে রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, খুলনা বিভাগ, বরিশাল বিভাগ ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

পার্লামেন্টারি বোর্ডে বিএনপি চেয়ারম্যান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দীন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

Advertisement

দলীয় সূত্র জানায়, যেসব প্রার্থীর এই দুই প্রশ্নের উত্তর দলের চেয়ারম্যানের পছন্দ হবে, তাদের ধানের শীর্ষের মনোনয়নের টিকিট মিলবে। এসময় তারেক রহমান নারী প্রার্থীদের কথা শুনে ছোট ছোট নোট আকারে সংগ্রহ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া অন্তত ২০ প্রার্থীর সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, পৃথকভাবে জেলাভিত্তিক প্রার্থীদের একসঙ্গে ডাকেন দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। সেখানে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের বায়োডাটা দেখেন বোর্ডের সদস্যরা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের প্রত্যেকের কাছে মনোনয়ন পেলে কি করবেন, আবার না পেলে কি করবেন এমনটা জানতে চান। তবে বেশিরভাগ নেত্রীই বিষয়টি তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেন। তারা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়িত করার আহ্বান জানান। এসব বৈঠকে ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়নের আশ্বাস দেয় পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড। 

দলীয় সূত্র জানায়, প্রথম দিনে প্রায় চার শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপির পার্লামেন্টরি বোর্ড। বিকেলে রংপুর বিভাগ দিয়ে শুরু করে পরবর্তীতে রাজশাহী বিভাগ হয়ে রাতে অন্যান্য বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন তারা।

পাবনা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট আরিফা রহমান রুমা জাগো নিউজকে বলেন, সাক্ষাৎকার দিয়েছি দলের হাইকমান্ডের কাছে। দলের হাইকমান্ড প্রোফাইল মূল্যায়ন করে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন। আমি আশা করি বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যারা রাজপথে সক্রিয় থেকেছে জেল জুলুম নির্যাতন ভোগ করেছে সুশিক্ষিত যোগ্যতা সম্পন্ন তারা এবার সংসদে যোগ দেবেন।

Advertisement

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা থেকে সাক্ষাৎকার দিতে আসেন মনোনয়নপ্রত্যাশী উম্মে কুলসুম। তিনি জানান, তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে ‘দল কেন আপনাকে মনোনয়ন দেবে’। আমি যুক্তি তুলে ধরে বলেছি- ১৯৯১ সাল থেকে আমি রাজপথে আছি। কীভাবে নির্যাতনের শিকার, কীভাবে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি, দুঃসময়ে কীভাবে রাজপথ ধরেছিলাম সেইসব কথা বলেছি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় গর্ভবতী থাকা অবস্থায় নির্বাচনি মাঠে ছিলাম। হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

সব কিছু বিবেচনায় দল যাকে মনোনয়ন দেবে-তাকেই মেনে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও থেকে আসা আরেক প্রার্থী নাজমা পারভিন বলেন, দলের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন আমরা আন্দোলনে সংগ্রামে ছিলাম, সেহেতু দল যাকে দেবে তার সঙ্গে আগামী দিনেও আমরা কাজ করব।

সাক্ষাৎকার শুরুর আগে গুলশান কার্যালয়ের সামনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা একটি কঠিন ও দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে আজ গণতন্ত্রের এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। সেই সংগ্রামে গত ১৫–১৭ বছরের আন্দোলনে নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা অবশ্যই মূল্যায়িত হবে। এই সময়ে অনেক নারী নেত্রী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, গুলিতে আহত হয়েছেন, তাদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে, এমনকি সন্তানদেরও তুলে নেওয়া হয়েছে—শুধু রাজনৈতিক আদর্শের কারণে। এই দীর্ঘ দমন-পীড়নের বিষয়গুলো নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পাশাপাশি সংসদে কার্যকরভাবে কথা বলা, আইন প্রণয়নে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও শিক্ষাগত যোগ্যতাও গুরুত্ব পাবে। সব দিক বিবেচনা করেই মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে—কারা হবেন নারী সংসদ সদস্য।

কেএইচ/এমআইএইচএস