দেশজুড়ে

ঈদগাঁওতে ফায়ার স্টেশন, জমি খুঁজছে প্রশাসন

কক্সবাজারে নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপনে জমি খোঁজা হচ্ছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার খোদাইবাড়ি, নার্সারি ও মেহেরঘোনা এলাকার তিনটি জায়গা পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমপির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

এমপি কাজল বলেন, প্রাচীনকাল থেকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে সমৃদ্ধ ঈদগাঁও। এখানে রয়েছে ১০ হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। রয়েছে ব্যাংক, বীমা, স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ নানা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু স্বাধীনতা পূর্ব বা পরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হলেও এখানে স্বতন্ত্র ফায়ার স্টেশন নেই। তবে, প্রতি বছর শুষ্ক বা অন্য মৌসুমেও অগ্নিকাণ্ডে ভিন্ন উপজেলা হতে দমকল বাহিনী পৌঁছাতে অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়েছে। মারা গেছেন অনেকে। তাই শুষ্ক মৌসুম এলেই আতঙ্ক ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় থাকেন স্থানীয়রা।

এমপি বলেন, ২০২০ সালে ঈদগাঁও স্বতন্ত্র উপজেলা হিসেবে ঘোষণা হয়েছে। তৎকালীন নীতিনির্ধারণী মহলের টানাটানিতে এখনো উপজেলা ভবনটি গড়ে উঠেনি। এরপরও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির রোধে আগে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন গড়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুই একটা জমি দেখা হয়েছে। প্রশাসনিক কাজ ও দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে এখানে আধুনিক ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হবে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও জনসেবায় বড় ভূমিকা রাখবে।

শিগগিরই ঈদগাঁও পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তর হবে উল্লেখ করে এমপি কাজল বলেন, আধুনিক একটি উপজেলা হবে ঈদগাঁও। স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে গড়ে তোলা হবে ঈদগাঁও উপজেলাকে; থাকবে সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা।

Advertisement

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র দুই মাস হলো। এই অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ শুরু করেছে সরকার। তার সুফল পেতে শুরু করেছে জনগণ।

গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এমপি কাজল জানান, ঈদগাঁওতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণসহ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

এমপি কাজল তার পোস্টে আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হবে। একই সঙ্গে সহযোগিতার জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের মতে, ঈদগাঁওয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপিত হলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে জননিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসবে।

Advertisement

সায়ীদ আলমগীর/এমআরএম