পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের চলনবিল বেষ্টিত ৮-১০টি গ্রামের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল ভাঙ্গুড়া উপজেলার সাড়ে চার কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক। তবে নির্মাণের আড়াই দশকেও সংস্কার না হওয়ায় ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে সড়কটি। সম্প্রতি প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে কালভার্ট নির্মাণ হলেও এর সংযোগ সড়ক না থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই স্থানীয়দের।
Advertisement
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাঙ্গুড়ার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বিশাকোল, বাঁশবাড়িয়া ও সাতবাড়িয়াসহ অন্তত ৮-১০টি গ্রামের মানুষের চলাচল ও উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা ও বাজারে নেওয়ার জন্য ২০০০ সালে এই সড়ক নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এ সড়কের বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পূর্বে থাকা ছোট কালভার্টে পানি প্রবাহ বাধা পাওয়ায় সেটি সরিয়ে গত বছর প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন বড় একটি কালভার্ট নির্মাণ করে উপজেলা এলজিইডি। তবে এসময় উপযুক্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় বর্তমানে এটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই কালভার্টের নামকাওয়াস্তে নির্মাণ করা একপাশের সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণ ভেঙে নিচে নেমে গেছে। ভাঙা অংশে পানি জমে কচুরিপানায় ঢেকে গেছে পুরো এলাকা। ফলে সেখান দিয়ে পারাপারের উপায় নেই। এছাড়া দীর্ঘদিনেও সংস্কার না হওয়ায় সাবমারসিবল সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ উঠে গিয়ে কাদা জমে রয়েছে। কোনো ধরনের সতর্কতামূলক চিহ্ন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। যা চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয়রা জানায়, এই সড়কটি শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙ্গুড়া থেকে নওগাঁ যাওয়ার বিকল্প ও সহজ মাধ্যমও এই সড়ক। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে। সড়কটিতে শুধু যানবাহন চালকরাই নন, পথচারীদের দুর্ভোগও চরমে পৌঁছেছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। চলনবিল অঞ্চলের কৃষিনির্ভর এই এলাকায় উৎপাদিত ধান, পাট ও শাকসবজি বাজারে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কৃষকরা। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত ফসল সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। বিকল্প পথেও রয়েছে ঝুঁকি। অথচ দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি লাঘবে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি কাউকেই।
Advertisement
এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার প্রধান সমস্যা এখন এই রাস্তা। এই রাস্তা ভালো থাকলে আমরা সহজেই ফসল বাজারে নিতে পারতাম। এখন অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়। এতে খরচ বাড়ে, লাভ কমে যায়। অনেক সময় ফসল নষ্টও হয়ে যায়। আমরা অনেক কষ্টে চলাচল করছি। অন্যের জমির ওপর দিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে ঝামেলা হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় অশান্তি বাড়তে পারে।
গাড়িচালক আব্দুল করিম বলেন, রাস্তাটি আমাদের জন্য আশীর্বাদ ছিল। কিন্তু এখন সেটি নেই। আগে সহজেই যাতায়াত করা গেলেও এখন ভাঙা থাকার কারণে অন্তত ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় ও তেল খরচ বেশি হচ্ছে। যাত্রীরাও বিরক্ত হয়ে যায়।
অটোচালক মো. সোহেল বলেন, এই ভাঙা অংশের কারণে অন্যের জমির আইল দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যেতে হয় যা খুবই কষ্টসাধ্য। একটু ভুল হলেই গাড়ি উল্টে যেতে পারে। তাই আমরা সহজে ঝুঁকি নিতে চাই না। ফলে অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ছেন।
স্কুল শিক্ষার্থী সাব্বির জানায়, স্কুলে যেতে হলে এই রাস্তাটাই সবচেয়ে কাছের। কিন্তু এখন বিকল্প রাস্তা দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে অনেক সময় ক্লাসে যেতে দেরি হয়ে যায়।
Advertisement
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, সড়কের অবস্থা ততোটাও খারাপ নয়। মূল সমস্যা হয়েছে কালভার্টের সংযোগ সড়ক না থাকায়।
তিনি বলেন, শুরুতে একটা ছোট কালভার্ট ছিল। তবে সেটিতে পানিপ্রবাহ বাধা পাওয়ায় গত বছর আমরা একটি বড় কালভার্ট নির্মাণ করি। এরসঙ্গে মাত্র ১৫ মিটার সংযোগ সড়ক ছিল। যেটি পর্যাপ্ত নয়। ফলে এখন এর একপাশ ভেঙে পড়ে যাওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা পরিদর্শন করে দুই পাশে আরও ৩০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলেছি। অনুমোদন পেলে দ্রুতই এটি নির্মাণের উদ্যোগ হবে।
এফএ/এএসএম