পাবনার ঈশ্বরদীতে চলতি মৌসুমে লিচুর মুকুল থেকে রেকর্ড পরিমাণ মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলা থেকে প্রায় ২৪ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ হয়। যা আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে সর্বোচ্চ।
Advertisement
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে ১,৫৭৫ হেক্টর লিচুর বাগানের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করা হয়। এতে মৌমাছির বাক্সের সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৩১০টি। এসব বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ হয়েছে ২৩ হাজার ৪৬০ কেজি বা ২৩.৪৬ মেট্রিক টন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
জগন্নাথপুর গ্রামের মধু চাষি আনছার আলী বলেন, ‘প্রতি বছর লিচুর মৌসুম এলেই ঈশ্বরদীতে মধু সংগ্রহের জন্য আসি। এবার এসেছি। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার লিচুর মুকুল বেশি ছিল এবং মধুও বেশি সংগ্রহ হয়েছে। প্রায় ২ টন মধু সংগ্রহ হয়েছে।’
আরও পড়ুনপতিত জমিতে হলুদ চাষে সফল শ্যামল, দেড় লাখ টাকা লাভের আশাউপজেলার জয়নগর প্রামানিক পাড়া এলাকায় ৩০০ বক্স নিয়ে লিচু ফুলের মধু সংগ্রহ করতে আসেন আমজাদ আলী। তিনি বলেন, ‘মধু আহরণের মৌসুমে ঈশ্বরদীতে এসেছিলাম। প্রতিটি বক্স থেকে ৬-৭ দিন পর পর মধু সংগ্রহ করা যায়। আমার মধু সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৩ টন। যার গড় বাজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।’
Advertisement
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ‘এ বছর ঈশ্বরদীতে আম এবং লিচুর মুকুল এসেছে রেকর্ড পরিমাণ। তাই বেশি ফুল থেকে বেশি মধু আহরণ সম্ভব হয়েছে। ঈশ্বরদীর স্থানীয় ১০-১২ জন মৌচাষি আছেন। এখন পর্যন্ত মধু সংগ্রহ হয়েছে ২৩ হাজার ৪৬০ কেজি বা ২৩.৪৬ মেট্রিক টন। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৭০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।’
তিনি বলেন, ‘লিচু ফুল ও মুকুলে মৌমাছি বসলে পরাগায়ন ভালো হয়, রোগবালাইও অনেকটা কম হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক বাগানে গুটি আসার পর কীটনাশক দরকার হয় না। এতে লিচু বাগানে বাম্পার ফলন হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে। মধুও উৎপাদন হয় ভালো।’
শেখ মহসীন/এসইউ
Advertisement