তীব্র গরমে বাইরে বের হলেই কারও কারও বুক ধড়ফড় করে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, মাথা ঘোরে - মনে হয় যেন কিছু একটা হতে যাচ্ছে। অনেকে এটিকে শুধুই গরমের কষ্ট ভেবে এড়িয়ে যান, আবার কেউ ভাবেন এটি প্যানিক অ্যাটাক।
Advertisement
বাস্তবে এই দুই অবস্থার লক্ষণ অনেক সময় একে অন্যের সঙ্গে মিলে যায়, তাই পার্থক্য বোঝা জরুরি।
সানস্ট্রেস আসলে কী?অতিরিক্ত রোদ ও তাপের কারণে শরীর যখন চাপের মধ্যে পড়ে, তখন যে শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হয়, সেটিকে সাধারণভাবে সানস্ট্রেস বলা হয়। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্দিষ্ট কোনো রোগের নাম না হলেও, এর সঙ্গে হিট এক্সহসশন বা গরমজনিত ক্লান্তির মিল রয়েছে।
এই অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় এবং পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে।
Advertisement
অন্যদিকে প্যানিক অ্যাটাক হলো হঠাৎ তীব্র ভয় বা অস্বস্তির অনুভূতি, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে চূড়ায় পৌঁছায়। এটি সাধারণত কোনো মানসিক ট্রিগারের কারণে হয়, তবে কখনো কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াও হতে পারে।
লক্ষণগুলো কোথায় মিলে যায়?দুই ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে -
বুক ধড়ফড় করা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া মাথা ঘোরা দুর্বল লাগা অস্থিরতা বা ভয়এই মিল থাকার কারণেই অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
পার্থক্য কীভাবে বুঝবেন?সানস্ট্রেস হলে -
Advertisement
প্যানিক অ্যাটাক হলে -
হঠাৎ করে ভয় বা মৃত্যুভাবনা তৈরি হতে পারে পরিবেশ পরিবর্তন করলেও সঙ্গে সঙ্গে কমে না কোনো স্পষ্ট শারীরিক কারণ ছাড়াও হতে পারে আগে থেকেও এমন অভিজ্ঞতা থাকতে পারে গরমে কি প্যানিক বাড়তে পারে?তীব্র গরমে শরীরের হার্ট রেট বেড়ে যায়, শ্বাস দ্রুত হয় - যা প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণের মতোই। ফলে মস্তিষ্ক এটিকে বিপদ হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা করতে পারে, এবং প্যানিক ট্রিগার হতে পারে।
কী করবেন?অতিরিক্ত গরমে থাকলে -
১. পর্যাপ্ত পানি পান করুন২. সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন৩. ঢিলেঢালা পোশাক পরুন৪. অসুস্থ লাগলে দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় যান
প্যানিকের লক্ষণ হলে -
১. ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন২. নিজেকে আশ্বস্ত করুন - এটি সাময়িক৩. প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা চিকিৎসকের সাহায্য নিন
কখন সতর্ক হবেন?যদি বারবার এমন অভিজ্ঞতা হয়, বা লক্ষণগুলো তীব্র হয়ে ওঠে, তাহলে এটি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ সঠিক কারণ না জেনে শুধু অনুমান করে বসে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
রোদে বের হয়ে অস্বস্তি লাগা সবসময়ই এক কারণের জন্য হয় না। কখনো এটি শরীরের তাপজনিত প্রতিক্রিয়া, আবার কখনো মনের সংকেত। পার্থক্যটা বুঝতে পারলেই সঠিকভাবে মোকাবিলা করা সহজ হয়।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, সিডিসি, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং
এএমপি/এমএস