গরম পড়লেই শরীর যেন একটু বেশি ক্লান্ত লাগে - কাজে মন বসে না, সারাদিন ঝিমুনি আসে, কিছু করতে ইচ্ছে করে না। অনেকেই এটাকে আলসেমি বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
Advertisement
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছেন, এই অবস্থার পেছনে থাকতে পারে সামার ফ্যাটিগ বা গরমজনিত ক্লান্তি - যা শরীর ও মনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
সামার ফ্যাটিগ আসলে কী?গরমের সময় আমাদের শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে বেশি পরিশ্রম করে। ঘাম ঝরে, শরীর থেকে পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় শরীরের শক্তি খরচ হয় বেশি, ফলে ক্লান্তি অনুভব হওয়াটা স্বাভাবিক।
এছাড়া অতিরিক্ত গরমে মস্তিষ্কের কার্যক্রমও কিছুটা ধীর হয়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়ে মনোযোগ ও মুডের ওপর।
Advertisement
১. পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনগরমে বেশি ঘাম হওয়ার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। এতে দুর্বলতা, মাথা ঝিমঝিম করা ও ক্লান্তি দেখা দেয়।
২. ঘুমের মান খারাপ হওয়াগরমের রাতে অনেকের ঘুম ঠিকমতো হয় না। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে পরের দিন ক্লান্তি ও বিরক্তি বাড়ে।
৩. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে চাপশরীর যখন অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে লড়াই করে, তখন অন্য কাজের জন্য কম শক্তি অবশিষ্ট থাকে।
৪. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনগরমে অনেক সময় খাবারে অনিয়ম হয় বা কম খাওয়া হয়, যা এনার্জি কমিয়ে দেয়।
Advertisement
৫. মানসিক প্রভাবঅতিরিক্ত গরমে বিরক্তি, অস্থিরতা ও মন খারাপও বাড়তে পারে - যা ক্লান্তির অনুভূতিকে আরও তীব্র করে।
এটি কি চিন্তার বিষয়?সামার ফ্যাটিগ সাধারণত সাময়িক। তবে যদি সবসময় ক্লান্ত লাগে, মাথা ঘোরা বা বমিভাব থাকেও দৈনন্দিন কাজে সমস্যা হয়, তাহলে এটি শুধু গরমজনিত ক্লান্তি নাও হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
কীভাবে নিজেকে ঠিক রাখবেন?>> পর্যাপ্ত পানি পান করুনদিনে বারবার পানি বা তরল খাবার গ্রহণ করুন।
>> হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খানফল, সবজি ও সহজপাচ্য খাবার শরীরকে সতেজ রাখে।
>> ঘুমের দিকে গুরুত্ব দিনরাতে শান্ত পরিবেশে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
>> রোদ এড়িয়ে চলুনঅতিরিক্ত গরমের সময় বাইরে কম বের হওয়াই ভালো।
>> শরীরের কথা শুনুনঅতিরিক্ত ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নিন - এটি দুর্বলতা নয়, প্রয়োজন।
গরমে ক্লান্ত লাগা মানেই আপনি অলস, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। অনেক সময় এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া, যা সঠিক যত্ন নিলে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিজের শরীরের সংকেতগুলো বুঝে চলাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে সহজ উপায়।
সূত্র: হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, মায়ো ক্লিনিক, সিডিসি, ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন
এএমপি/জেআইএম