পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাড়ির মালিক উজ্জ্বল বাহাদুর (৫১) ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুর (১৯)।
Advertisement
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিনগত রাত ২টার দিকে ৭ জনের একটি ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে উজ্জ্বল বাহাদুরের বাড়িতে প্রবেশ করে। এসময় তারা বাড়ির মালিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করলে পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও কোপাকুপির ঘটনা ঘটে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করে। এতে ডাকাত দলের বাকি ৬ সদস্য ফাঁকা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সংঘর্ষে এক ডাকাত ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই ডাকাতকে মৃত ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে গুরুতর আহত উজ্জ্বল বাহাদুর ও তার ছেলে মিশকাফ বাহাদুরকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নিহত ডাকাতের নাম দুলাল। তিনি বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার একতা বাজার এলাকার মজিবর রাড়ির ছেলে। পালিয়ে যাওয়া অন্যদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
Advertisement
উজ্জ্বল বাহাদুর স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক ও ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকেছিল। তবে গৃহকর্তার পরিবারের প্রতিরোধের মুখে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল পিরোজপুর নাসরিন জাহান পরিদর্শন করেছেন।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, আহত ডাকাতকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত বাড়ির মালিক ও তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ডাকাতি ও নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন।
Advertisement
মো. তরিকুল ইসলাম/এমএন/জেআইএম