পেট্রোল ও অকটেন সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন ভোলার মোটরসাইকেল বিক্রেতারা। বাজারে আগের মতো ক্রেতার দেখা মিলছে না। অনেক ব্যবসায়ী ৫-১০ দিনেও একটি মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পারছেন না। মাঝেমধ্যে ক্রেতার দেখা মিললেও তারা নতুন মোটরসাইকেলের সঙ্গে কমপক্ষে ৫ লিটার জ্বালানি তেল দেওয়ার শর্ত দিচ্ছেন। এতে বিক্রি না হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
Advertisement
ব্যবসায়ীদের দাবি, এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।
ভোলা শহরের উকিল পাড়া এলাকার মোটরসাইকেল শোরুমগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন কোম্পানির শোরুম, ডিলার ও খুচরা দোকানে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও দামের মোটরসাইকেল। ক্রেতাদের অপেক্ষায় শোরুম মালিক, ডিলার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রহর গুনলেও দিনে একজনের দেখাও পাচ্ছেন না অনেকে।
‘আগে প্রতি মাসে ২৫-৩০টি গাড়ি বিক্রি হতো। এপ্রিল মাসের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও মাত্র ২টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে, তাও অনেক কষ্টে। কিস্তিতে যারা গাড়ি কেনেন তারা মূলত ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক। তেল সংকটে গাড়ি চালাতে না পারায় তারাও সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না।’
Advertisement
শোরুম মালিক ও ম্যানেজার জানান, গত ৭-১০ দিনে তারা একটিও মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পারেননি। কয়েকজন ডিলার জানান, গত ১০ দিনে দু-তিনজন ক্রেতা এলেও তারা গাড়ির সঙ্গে পেট্রোল ও অকটেনের দাবি করেন। ক্রেতাদের এই দাবি পূরণ করতে না পারায় একটি মোটরসাইকেলও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন:কাজ হারিয়ে দিশাহারা হাজারো পাথর শ্রমিকজ্বালানি সংকটে মিলছে না ট্রাক, জমছে পণ্যের স্তূপসাতক্ষীরায় ডিজেল সংকটে বিপাকে চালকরা
বিভিন্ন কোম্পানির ডিলাররা জানান, ঋণ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করলেও আগে কখনও কিস্তির টাকা পরিশোধে সমস্যা হয়নি। তবে এ মাসে কিস্তির টাকা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এমন স্থবির অবস্থা শুধু ভোলা শহরের উকিল পাড়া এলাকায় নয়, জেলার সাত উপজেলার সব মোটরসাইকেল শোরুমেই বিরাজ করছে।
উকিল পাড়া এলাকার হোন্ডা কোম্পানির ডিলার মো. আরিফুর রহমান জানান, তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে এই কোম্পানির ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা করছেন। আগে বেচাকেনা ভালোই হতো, কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে গত ১০ দিনে একটি মোটরসাইকেলও বিক্রি করতে পারেননি।
Advertisement
‘জ্বালানি তেলের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি ভোলায় তেলের সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তাই ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।’
তিনি আরও জানান, দু-একজন ক্রেতা এলেও তারা নতুন গাড়ির সঙ্গে অন্তত ৫ লিটার তেলের দাবি করেন। শোরুম থেকে তেল সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় ও ক্রেতারা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সংগ্রহ করতে রাজি না হওয়ায় তারা গাড়ি না কিনেই চলে যাচ্ছেন। ফলে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি এখন দিশাহারা।
শোরুমের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘২-৩ দিন আগে এক ক্রেতা গাড়ি পছন্দ করে টাকাও পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু মেমো তৈরির সময় তিনি ৫ লিটার পেট্রোল দাবি করেন। শোরুম থেকে পেট্রোল দেওয়া সম্ভব নয় জানালে তিনি টাকা ফেরত নিয়ে চলে যান। এমন পরিস্থিতিতে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
আরও পড়ুন:হাওরে জলাবদ্ধতায় ভরা মৌসুমেও সংকটে কৃষকজ্বালানি সংকটে স্বস্তি দিচ্ছে জিকে ক্যানাল, কৃষকের মুখে হাসিজ্বালানি সংকটে কুয়াকাটায় পর্যটক খরা
হিরো হোন্ডার ডিলার মো. রায়হান বলেন, ‘আগে প্রতি মাসে ২৫-৩০টি গাড়ি বিক্রি হতো। এপ্রিল মাসের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও মাত্র ২টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে, তাও অনেক কষ্টে। কিস্তিতে যারা গাড়ি কেনেন তারা মূলত ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক। তেল সংকটে গাড়ি চালাতে না পারায় তারাও সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না।’
এম আর মোটরসের পরিচালক গৌরব সাহা জানান, জ্বালানি সংকটে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন। এই সংকট দূর না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসা স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ নেই। দোকানের ম্যানেজার অমিত সাহা জানান, গাড়ি বিক্রি না হলে স্টাফদের বেতন দেওয়া মালিকের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় আছেন।
ইয়ামাহা শোরুমের ম্যানেজার মাহিয়া ইসলাম বলেন, ‘পেট্রোল সংকটের প্রভাব মোটরসাইকেল বাজারে প্রকট। এবার ঈদেও আশানুরূপ বিক্রি হয়নি। মাসের অর্ধেকের বেশি সময় গেলেও ৫টি গাড়িও বিক্রি হয়নি। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমরা বড় লোকসানে পড়বো।’
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক তরিকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তবে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি ভোলায় তেলের সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তাই ব্যবসায়ীদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।’
এমএন/জেআইএম