শিক্ষা

এসএসসি পরীক্ষার বাকি একদিন, এখনো চলছে ফরম পূরণ!

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল)। মাঝে সময় আছে একদিন। অথচ এখনো চলছে ফরম পূরণ। ফলে একদিন পরই অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষায় ঠিক কতজন শিক্ষার্থী অংশ নেবে, সেই তথ্য এখনো স্পষ্ট করে দিতে পারছে না ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।

Advertisement

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখনো ফরম ফিলআপ চলছে। এ পর্যন্ত আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা হলো শুধু ঢাকা বোর্ডের অধীনে ফরম পূরণ করেছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭১৪ জন। এটা আরও কিছু বাড়তে পারে।’

পরীক্ষার একদিন আগেও ফরম পূরণ কীভাবে চলছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেকে বিষয় পরিবর্তন করে; অনেকের আরও অনেক ধরনের ঝামেলা থাকে, সেদিক বিবেচনা করে সুযোগ রাখা হয়।’

ঢাকা বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। জরিমানা ছাড়া ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ফরম পূরণ করতে পেরেছে পরীক্ষার্থীরা। এরপর ১২ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত জরিমানাসহ ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে আরও কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়।

Advertisement

সবশেষ জরিমানাসহ ৩১ মার্চ ফরম পূরণের সময় নির্ধারণ করা হয়। এরপর বিশেষ বিবেচনায় ১২-১৩ এপ্রিল ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়। এতবার সময় বাড়ানোর পরও পরীক্ষার একদিন আগে ফের ফরম পূরণ করাচ্ছে ঢাকা বোর্ড।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন তথ্য জানা গেছে। টেস্ট পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল না করা অনেক শিক্ষার্থীকে শেষ সময়ে তদবির করে ফরম পূরণ করিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেকে টেস্টে অনেক সাবজেক্টে ফেল করে; অনেকে টেস্ট পরীক্ষায় অংশই নেয় না। তাদের পরে আবার পরীক্ষা দেওয়ানো হয় এবং পাস করানো হয়। এরপর তাদের ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়। এসব কাজ অনেক সময় তদবিরে হয়।’

পুরান ঢাকার একটি ঐতিহ্যবাহী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাগো নিউজকে বলেন, ‘নানান ইস্যু থাকে। এর মধ্যে টেস্টে নির্ধারিত সাবজেক্টের চেয়েও বেশি সাবজেক্টে ফেল করা শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থায় ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তো অবশ্যই তদবির হয়, এটা বোর্ডের সবাই জানে। কিছু যৌক্তিক কারণও থাকে। সাবজেক্ট পরিবর্তন করা হয়; অনেকে পরীক্ষা দিতে না চাওয়ায় ফরম পূরণ বাতিল করে; বিভাগ নির্ধারণে ভুল-ত্রুটিগুলোও সংশোধনের সুযোগ থাকে। তবে তদবিরে বেশি হয়।’

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘কতজন পরীক্ষার্থী আসন্ন পরীক্ষায় অংশ নেবে, তা আগামীকাল সন্ধ্যায় জানানো হবে।’ কেন এবার পরীক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে এত দেরি হচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘দিয়ে দেবো, দেরি হবে না। পেয়ে যাবেন।’

শেষ সময়ও ফরম পূরণ চলা এবং তদবিরের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। কয়েক দফা তাকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তাকে এসএমএস দেওয়া হলেও সাড়া দেননি।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আগামী ২১ এপ্রিল। প্রথম দিন বাংলা প্রথমপত্র। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ২০ মে। ৭ জুন থেকে শুরু হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত।

এএএইচ/এমকেআর