দেশজুড়ে

সিটি করপোরেশন হচ্ছে বগুড়া, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায় জেলাবাসী

দেড়শ বছরের পুরোনো ও দেশের অন্যতম বৃহৎ পৌরসভা বগুড়াকে অবশেষে দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। আগামীকাল রোববার (২০ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে এসে এই ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়া জেলাজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার বগুড়া পৌরসভা সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও সিটি কর্পোরেশনের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়াটি পুনরায় গতি পায় এবং বর্তমানে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জনপদে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন এবং আধুনিক নগর গড়ার প্রত্যয়ে এই রূপান্তরকে বগুড়াবাসীর বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। একই সঙ্গে জেলা বিএনপি বড় জনসভার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকা সংস্কারের পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নিজ জেলা বগুড়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এই সফর ঘিরে জেলায় বইছে উৎসবের আমেজ। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও এখন তুঙ্গে। বহুদিনের দাবি পূরণে এই সফরেই বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষা মৌসুম এলেই জলাবদ্ধতা তীব্র আকার ধারণ করে। এক বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, চলাচল করা যায় না। দীর্ঘদিনেও রাস্তার তেমন উন্নয়ন হয়নি। রাস্তার দুই পাশে যত্রতত্র ময়লা পড়ে থাকে। সিটি কর্পোরেশন হলে এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবো বলে আশা করছি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা শাজাহান আলম রিপন জানান, সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়ন হলে নাগরিক দুর্ভোগ কমবে। তিনি বলেন, বগুড়া পৌরসভা দেশের অন্যতম বৃহৎ পৌরসভা। প্রায় এক যুগ আগেই এটিকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বাস্তবায়ন হলে সেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পাবে।

পৌরসভা প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা বলেন, বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন হলে কাজের পরিধি, কর্মপরিসর ও নাগরিক সুবিধা অনেক বাড়বে। বর্তমানে ৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে বগুড়া পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভার আয়তন প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভায় প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস।

এল.বি/কেএইচকে/জেআইএম