আইন-আদালত

ঢাকা বারের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা জামায়াতপন্থি সবুজ প্যানেলের

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বার হিসেবে পরিচিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল। তবে, ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতপন্থি ১১-দলীয় মোর্চা আইনজীবীদের প্যানেল (সবুজ প্যানেল)। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর আবেদন করেছেন তারা।

Advertisement

রোববার (১৯ এপ্রিল) এ আবেদন জমা দেন তারা। পরে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন সবুজ প্যানেলের আইনজীবীরা।

আবেদনে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনে নীল প্যানেল হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে বৈষম্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সর্বসম্মতিক্রমে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে পাঁচজন করে সদস্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা হয়নি।

সবুজ প্যানেলের অভিযোগ, বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সাতজন এবং ১১-দলীয় মোর্চার পক্ষ থেকে মাত্র তিনজন সদস্য রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তার জন্য ১০০ জন আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রেও অধিকাংশ সদস্য বিএনপিপন্থি পক্ষ থেকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Advertisement

এ বিষয়ে সবুজ প্যানেলের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনও করেন। সেখানে তারা বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও ১০ জন কমিশনার এবং পরবর্তীতে ১০০ জন আইনজীবী নিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নিয়ম থাকলেও সেখানে সমতা বজায় রাখা হচ্ছে না। সবুজ প্যানেল দুই পক্ষ থেকে সমানসংখ্যক নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে।

ঐতিহ্য অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিটি প্যানেল থেকে সমানসংখ্যক কমিশনার ও কমিশন সদস্য থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নীল প্যানেল (বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের প্যানেল) থেকে মোট আটজন কমিশনার নিয়োগ পেয়েছেন। অন্যদিকে, সবুজ প্যানেল থেকে নিয়োগ পেয়েছেন মাত্র তিনজন কমিশনার। সবুজ প্যানেলের নেতাদের মতে, এ বৈষম্য স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় এবং এটি অবাস্তব ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

পরবর্তীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সবুজ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী এস এম কামাল উদ্দিন বলেন, ভোটগ্রহণের সময় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে— তারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ বর্তমান কমিটির নেতাদের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Advertisement

একই সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির যে মান থাকা প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে আমাদের পর্যবেক্ষণ।

এই জন্যই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অতীতের মতো দুই প্যানেল থেকে পাঁচজন পাঁচজন হলে এ আতঙ্ক তৈরির প্রশ্ন আসতো না। বারবার লিখিত আকারে বলার পরেও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। বিজ্ঞ আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে ভোট দেবেন। এটা কার পক্ষে যাবে, কার বিপক্ষে যাবে এটা নিয়ে আমরা কনসার্ন না।

আমরা কনসার্ন হলো– স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে। কিন্তু ভোট হওয়ার আগেই ইলেকশন সিস্টেমে একটা মেকানিজম করার যে আগ্রহ বা দৃষ্টিভঙ্গি দেখা যাচ্ছে আমরা মনে করি এই পরিবেশে ভোট হওয়া এবং ভোট গণনা করা দুইটাই অন্তত রিস্কি ব্যাপার। শিশির মনির বলেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত তাদেরকে আমরা আহ্বান জানাবো ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করুন। আপনারা আইনজীবীদের আস্থা অর্জন করে ভোটে অংশগ্রহণ করুন। যে যাকে মনে চায় ভোট দেখ। তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নাই। সেইসঙ্গে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ভোট গণনা করার দাবিও জানান তিনি।

এফএইচ/এমএএইচ/