ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলেই নেমে আসে চরম অন্ধকার। গত শনিবার রাতে এমনই এক নাজুক পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের মাঝে, যেখানে বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম।
Advertisement
সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের অন্ধকারেই থাকতে হচ্ছে। এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যে দেখা যায়, এক রোগীর শরীরে রক্ত সঞ্চালনের সময় তার মেয়ে মোবাইল ফোনের আলো দিয়ে সহায়তা করছেন। একইভাবে নার্সদেরও মোবাইলের আলো ব্যবহার করে রোগীর রক্তচাপ মাপা ও ওষুধ দিতে দেখা গেছে।
চিকিৎসা নিতে আসা জেলাখা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতালটি অচল হয়ে পড়ে। গরমের মধ্যে স্যালাইন চলাকালীন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়, এতে রোগীদের কষ্ট কয়েকগুণ বেড়ে যায়।’
হাসপাতালে ভর্তি থাকা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘আমি আমার বাচ্চাকে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রেখেছি। বিদ্যুৎ চলে গেলে অতিরিক্ত গরম ও অন্ধকারে আমরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছি।’
Advertisement
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, একই ভবনের নিচতলার কিছু বন্ধ অফিস কক্ষে বিদ্যুৎ থাকলেও রোগীদের ওয়ার্ডে ছিল অন্ধকার—যা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। রোগীদের ভাষায়, ‘কারেন্ট চলে গেলে এই হাসপাতালটা যেন ভূতের হাসপাতাল হয়ে যায়।’
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের। তিনি তার সহধর্মিণী শিরিন বানুকে হাসপাতাল পরিদর্শন করে রোগীদের সমস্যার কথা শোনার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ সাইদুরজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতালে জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। আইপিএস ব্যাটারিতেও পর্যাপ্ত চার্জ নেই। এছাড়া নিচতলায় বিদ্যুৎ থাকলেও ওপরের ওয়ার্ডগুলোতে বিদ্যুৎ ছিল না। আমরা বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করছি এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে, তবে সমাধানে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
তানভীর হাসান তানু /এমআরএম
Advertisement