‘ব্লগার অভিজিৎ হত্যার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জনিও গুমের শিকার। গুম সংক্রান্ত প্ল্যাটফর্মে জমির সঙ্গে তার ছবি পোস্ট করা থাকতে পারে। তবে জনি কেরানীগঞ্জ মাদরাসায় বোমা বিস্ফোরণ মামলার আসামি কি না, তা আমার জানা নেই।’
Advertisement
আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মো. মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী এ সাক্ষ্য দেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। সোমবার (২০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় এমন কথা বলেন তিনি।
এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) এই মামলায় জবানবন্দি পেশ করেন তিনি। জবানবন্দিতে মাসরুর বলেন, ২০২০ সালের ১ মার্চ তাকে গুম করা হয়। জেরায় মাসরুর এটাও বলেন, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য ছিলেন, এ কথা সত্য নয়। তবে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জ মাদরাসায় বোমা বিস্ফোরণ মামলার আসামি আলামীনের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন মাসরুর। আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণীর জেরায় তিনি বলেন, ‘এ কথা সত্য নয়’।
Advertisement
আরও পড়ুন:
ব্লগার অভিজিৎ-রাজিব-অনন্ত হত্যাকাণ্ড একই স্টাইলে
জেরায় মাসরুর আরও বলেন, জনির সঙ্গে তার জেলখানায় পরিচয় হয়েছিল। জনিও গুমের শিকার। গুম-সংক্রান্ত প্ল্যাটফর্মে জনির সঙ্গে তার ছবি পোস্ট করা থাকতে পারে। তবে জনি কেরানীগঞ্জ মাদরাসায় বোমা বিস্ফোরণ মামলার আসামি কি না, তা তিনি জানেন না।
টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় গ্রেফতার ১০ আসামি হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম এবং কে এম আজাদ; কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে); লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। টিএফআই সেলে গুম সাব-জেলে থাকা ১০ জন সেনা কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
Advertisement
এই মামলার অপর সাত আসামি পলাতক। তারা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎকে। হামলায় অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদও গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।
এফএইচ/এসএনআর