দেশজুড়ে

দায়সারাভাবে পালিত হলো বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের মৃত্যুবার্ষিকী

ফরিদপুরের মধুখালীর কৃতী সন্তান মুক্তিযুদ্ধে জীবনদানকারী অকুতোভয় যোদ্ধা বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ছিল ২০ এপ্রিল। তবে দায়সারাভাবে পালিত হয়েছে দিনটি। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মধুখালীর কামারখালীর সালামতপুর গ্রামে বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রশাসনের এমন দায়সারা উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।

Advertisement

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামের বাসিন্দা মুন্সি মেহেদি হাসান ও মকিদুন্নেসা দম্পতির ছেলে। ১৯৪৩ সালের ৮ মে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

সংসারের অভাব দেখে মুন্সি আব্দুর রউফ ১৯৬৩ সালের ৮ মে ২০ বছর বয়সে যোগদান করেন ইপিআর-এ। মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিঝরা দিনে ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল রাঙ্গামাটির মহালছড়ি নৌপথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সম্মুখ সমরে তিনি বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম করে জীবন উৎসর্গ করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তাকে দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন হিসেবে সম্মানিত করা হয়।

জানা গেছে, প্রতিবছর মুন্সী আব্দুর রউফের মৃত্যুবার্ষিকীতে সকাল ৭টায় মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনটির সূচনা হয়। এ কাজ সরকারে পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কিংবা বীরশ্রেষ্ঠের বোন জোহরা বেগম উত্তোলন করে থাকেন। এসময় কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকেন। পরে বিকেলে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। তবে এবার তেমন কিছুই করা হয়নি।

Advertisement

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান সাইদুর রহমান বলেন, সোমবার সকাল থেকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু কর্মকর্তা কিংবা ইউপি চেয়ারম্যান না আসায় প্রতিদিনের মতো স্মৃতি জাদুঘর খোলার সময় সকাল ৯টায় আমরা নিজেরাই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি।

তিনি বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান আমাকে ফোন করে বলেন লোকজনদের খবর দাও, বাদ আসর মিলাদ হবে। অথচ অন্যান্যবার এসব আয়োজন আগে থেকেই করা হতো।

বিকেলের মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান। সভাপতিত্ব করেন কামারখালী ইউপি চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান। এতে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কার মোল্লা ও শাহাদাত হোসেন সাবু, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্কাস আলী মৃধা এবং সালামতপুর গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে ব্যবসায়ী এনামুল হক।

এ অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠের বড় বোন জোহরা বেগম উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি এসে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে উপস্থিত আমন্ত্রিতদের হাতে জিলাপি তুলে দেওয়া হয়।

Advertisement

দায়সারাভাবে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান বলেন, আসলে ভুলটা আমারই হয়েছে। দিবসটি আমার একেবারেই স্মরণে ছিল না। দুপুরে আমি ফরিদপুরে ছিলাম, তখন একজন আমার কাছে আজকের কর্মসূচি জানতে চান। আমি দ্রুত ইউএনওকে অবহিত করি এবং মিলাদের আয়োজন করি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান জাগো নিউজকে বলেন, বিগত দিনে কীভাবে পালন করা হতো বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি। আমি আগের থেকে জানলে এমনটি হতো না। আমাকে বিকেলে জানানো হয়েছে। আমি বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগারের উপস্থিত হই এবং মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করি। এরপর থেকে সকল দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে।

এন কে বি নয়ন/এফএ