সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি তার জোট শরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।
Advertisement
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুকে এ কথা লিখেন তিনি।
সারজিস আলম লেখেন, অভ্যুত্থানের আগে থেকে শুরু করে সর্বশেষ নির্বাচন পর্যন্ত জনাব তারেক রহমান নিজে অসংখ্যবার জাতীয় সরকারের কথা বলেছেন। সে হিসেবে আমরা ভেবেছিলাম শক্তিশালী জাতীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদে বিরোধী দল থেকেও একাধিক জনকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে!কিন্তু বিরোধীদল তো দূরের কথা, সরকারি দল তার নিজেদের জোট সঙ্গীদেরকেই মন্ত্রিপরিষদে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে জায়গা করে দিতে পারেনি। ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে তাদের জোট সঙ্গী অন্য দলগুলো থেকে অন্তত ১ জন মন্ত্রী দেওয়ার মতো উদারতাও দেখাতে পারেনি।
এনসিপি নেতা সারজিস লেখেন, আজকে (গতকাল) যখন সংরক্ষিত মহিলা আসনে সরকারি দল এবং বিরোধী দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হল তখনও বিএনপি জোট শরিকদের সাথে আবার প্রতারণা করেছে এবং ন্যূনতম উদারতা দেখানোর মানসিকতা প্রদর্শন করতে পারেনি। বিএনপির ৩৬ টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মধ্যে ৩৬টি বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। দেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রধানের কমিটমেন্ট যখন এত ঠুনকো হয় তখন তা আমাদেরকে আশাহত করে।
Advertisement
এ সময় সারজিস তাদের জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রশংসা করে লেখেন, ‘অথচ দল হিসেবে জামায়াত মাত্র ১২টি সংরক্ষিত আসন পেলেও সেখান থেকে এনসিপি, জাগপা এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১টি করে মোট ৩টি আসন ছেড়ে দেওয়ার মতো উদারতা দেখিয়েছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই কমিটমেন্ট এবং উদারতা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
আরও পড়ুনসংরক্ষিত নারী আসনে কারা পেলেন বিএনপির মনোনয়ন?১১ দলের প্রার্থী চূড়ান্ত: জামায়াত থেকে ৮, আছেন জুলাই শহীদের মাবিএনপির নারী এমপি হয়ে সংসদে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সুবর্ণাছাত্ররাজনীতি থেকে সংসদে ৬ নারী নেত্রী, বিএনপিতে নতুন বার্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন ১২ মে। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনে প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে হিসাবে, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্ররা মিলে একটি সংরক্ষিত আসন পাবে।
এই নির্বাচন ঘিরে গত ১৭ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করে বিএনপি। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৩৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
Advertisement
তালিকায় আছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
আরও পড়ুনবিএনপির মনোনয়নে চমকের ভিড়ে বাদ পড়লেন যারাসাবেক এমপিদের মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ৯ জনবিএনপির এমপি হচ্ছেন আওয়ামী আমলের এপিপি মাধবী, নেতাকর্মীদের ক্ষোভসংরক্ষিত নারী আসনে মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমা দেবে বিএনপি
১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হলেন যারাসংরক্ষিত নারী আসনে গতকাল ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীও চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে জামায়াতে ইসলামী থেকে আছেন আটজন। সেই সঙ্গে একজন জুলাই শহীদের মাকে রাখা হয়েছে।
জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সাবিকুন নাহার মুন্নী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও মহিলা বিভাগের সদস্য মারদিয়া মমতাজ, মহিলা বিভাগের সদস্য নাজমুন নাহার নীলু, সিলেটের নেত্রী মাহফুজা সিদ্দিকা, বগুড়ার নেত্রী ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদা সামাদ এবং খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারি সামসুন নাহার।
এছাড়া এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও সদস্যসচিব মাহমুদা আলম মিতু, জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নারী মজলিসের সদস্য মাহবুবা হাকিম এবং জুলাই শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম মনোনয়ন পেয়েছেন।
এমএমএআর