গরমের দিনে বাইরে না বের হলেও অনেকেরই সারাদিন ক্লান্ত, অবসন্ন বা ঝিমঝিম লাগে। ফ্যান বা এসির নিচে বসেও যেন শরীরে শক্তি আসে না, কাজ করতে ইচ্ছা করে না। অনেকেই ভাবেন এটি হয়তো অলসতা, কিন্তু আসলে এর পেছনে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক ও শারীরিক কারণ।
Advertisement
গরমের সময় আমাদের শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে বেশি পরিশ্রম করে। শরীর ঘাম ঝরিয়ে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে, আর এই প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি খরচ হয়। ফলে আমরা ঘরে বসে থাকলেও শরীর ক্লান্ত অনুভব করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীরের এনার্জি দ্রুত কমে যায়, যা ক্লান্তির অন্যতম কারণ।
পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনগরমে ঘাম বেশি হওয়ায় শরীর থেকে পানি ও লবণ দ্রুত বের হয়ে যায়। আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না যে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি এমনকি মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী, গরমে পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারে, যা ক্লান্তি ও অবসাদের প্রধান কারণগুলোর একটি।
ঘুমের মান খারাপ হওয়াগরমে অনেকেরই রাতে ভালো ঘুম হয় না। অতিরিক্ত গরম, ঘাম বা অস্বস্তির কারণে ঘুম ভেঙে যায় বা গভীর ঘুম হয় না। ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেও শরীর ফ্রেশ লাগে না। ঘুমের ঘাটতি সরাসরি শরীরের এনার্জি কমিয়ে দেয় এবং সারাদিন ক্লান্তি অনুভব হয়।
Advertisement
গরমের দিনে তেল-চর্বিযুক্ত বা ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা হয়। শরীর এসব খাবার হজম করতে বেশি শক্তি ব্যবহার করে, ফলে ক্লান্তি বাড়ে।
নিউট্রিশন জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, গরমে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার শরীরের এনার্জি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
শারীরিক কার্যকলাপের অভাবগরমে অনেকেই অলস হয়ে যান এবং কম নড়াচড়া করেন। এতে শরীরের রক্ত সঞ্চালন কমে যায়, ফলে শরীর আরও ক্লান্ত লাগে। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে থাকাও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।
মানসিক ক্লান্তি ও বিরক্তিঅতিরিক্ত গরম শুধু শরীর নয়, মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। গরমে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মনোযোগ কমে এবং কাজের আগ্রহ হারিয়ে যায়। এই মানসিক ক্লান্তিও শারীরিক ক্লান্তির মতোই অনুভূত হয়।
Advertisement
দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ফলের জুস শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করবে।
হালকা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খানগরমে শাকসবজি, ফলমূল, সালাদ ও সহজপাচ্য খাবার বেশি খান। তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
ঘুমের দিকে গুরুত্ব দিনরাতে ঠান্ডা ও আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে হালকা পোশাক পরুন এবং ঘরের বাতাস চলাচল ঠিক রাখুন।
হালকা ব্যায়াম করুনসকালে বা সন্ধ্যায় হালকা হাঁটা বা স্ট্রেচিং করলে শরীর সক্রিয় থাকে এবং ক্লান্তি কমে।
ঘর ঠান্ডা রাখুনঘরের পর্দা টেনে রাখা, ফ্যানের সঙ্গে বাটি ভর্তি পানি রাখা বা কুলিং মিস্ট ব্যবহার করলে ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানো যায়।
মানসিক চাপ কমানোগরমে নিজেকে বেশি চাপ না দিয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নিন। গান শোনা, বই পড়া বা হালকা কোনো কাজ করলে মন ভালো থাকে।
গরমে ক্লান্তি লাগা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়, তবে এটি অবহেলা করা উচিত নয়। শরীরের ছোট ছোট সংকেতগুলো বুঝে যদি আমরা জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনি, তাহলে সহজেই এই ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মেডিকেল নিউজ টুডে, ওয়েব এমডি
আরও পড়ুন: গরমে কি রাগ বেড়ে যায়? হিট-রিলেটেড অ্যাগ্রেশন নিয়ে যা জানা জরুরি ঘুমানোর আগে ধূমপানে বাড়ছে অনিদ্রা ও হৃদরোগের ঝুঁকিএসএকেওয়াই