অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকারের উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে নানা জটিলতায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পাওয়ার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, অনিয়মে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Advertisement
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা নিয়ে নানা সমস্যার কথা উঠে আসে। এ সময় এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও আলোচনায় অংশ নেন।
বাংলাদেশ ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিইএ) পক্ষে এ এইচ ইলেকট্রিক কোম্পানির প্রোপাইটর হারেস মোহাম্মদ বলেন, অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দিতে গিয়ে তারা নানা সমস্যায় পড়ছেন। আগে ম্যানুয়ালি জমা দেওয়া রিটার্ন এখন আর গ্রহণ করা হচ্ছে না, কিন্তু পুরোনো তথ্য অনলাইনে আপডেট না থাকায় নতুন করে রিটার্ন দাখিল করতে গেলে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্র্যাকটিক্যালি অনেকদিন ধরে আমরা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিচ্ছি। এখন সেটি রিসিভ করছে না। কিন্তু অনলাইনে দিতে গেলে বলছে—আপনার ডেটা আপডেট নেই, আগে আপডেট করতে হবে। কিন্তু এই আপডেট কীভাবে করব, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।
Advertisement
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এই অনলাইন প্রক্রিয়া চালুর উদ্দেশ্যই হলো ব্যবসায়ীদের কাজ সহজ, স্বচ্ছ ও দ্রুত করা। তিনি জানান, যেসব পুরোনো রিটার্ন অনলাইনে আপডেট হয়নি, সেগুলো ব্যবসায়ীদের নিজ উদ্যোগে এন্ট্রি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমেও জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, আপনাদের লাইফ সহজ, স্বচ্ছ ও সহজতর করার জন্যই আমরা অনলাইনে এসেছি। পুরোনো পেপার রিটার্নগুলো নিজেরাই এন্ট্রি দিয়ে আপডেট করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এটি মার্চের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। অনেকেই এরই মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করেছেন। সুতরাং এটি খুব কঠিন কিছু নয়।
তবে ব্যবসায়ী হারেস মোহাম্মদ এ বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, বাস্তবে আপডেট করতে গেলেও নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, আমরা যখন আপডেট করতে যাই, তখন বলা হয়—এটা অমুক যাচাই করবে, তমুক যাচাই করবে। অর্থাৎ শুধু আপডেট করলেই হচ্ছে না, আরও অনেক ধাপ রয়েছে।
Advertisement
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, কোনো চেক নেই। যদি কোথাও পেন্ডিং থাকে, সেটির রিপোর্ট আমরা আজ সন্ধ্যায় নেব। কোথায় কতগুলো পেন্ডিং আছে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে দ্রুত সব অনুমোদন দেওয়া হয়। কেউ অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরপর হারেস মোহাম্মদ বলেন, আমি তো সাবমিশন করেছি। এতদিনেও কেন আপডেট হলো না? এটা তো আপনাদের করার কথা, কারণ আপনারাই তো ম্যানুয়ালি রিটার্ন নিয়েছেন।
এ পর্যায়ে এনবিআর চেয়ারম্যান স্বীকার করেন, একদম ঠিক বলেছেন। এটা আমাদের দায়িত্ব ছিল, আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়েছি।'
হারেস মোহাম্মদ আরও বলেন, ভ্যাট অফিসে কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলির কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যিনি ছিলেন, তিনি নেই—এভাবে বারবার পরিবর্তন হচ্ছে। এখন আমাকে বলা হচ্ছে, আমার দুটি প্রতিষ্ঠানের ৬৬টি রিটার্ন আপডেট করতে হবে। আমি করতে রাজি, কিন্তু শুধু আমার করলেই হবে না—এখানে আরও বিভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জবাবে বলেন, এ ধরনের কোনো জটিলতা থাকার কথা নয়। আপনারা মন খুলে সমস্যার কথা বলুন, আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো।
শেষে হারেস মোহাম্মদ বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। “আমরা ম্যানুয়ালি রিটার্ন দিয়েছি, কিন্তু অনলাইনে দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছি। আপনাদের কাছে অনেক সময় পৌঁছানোই যায় না—অফিসের ভেতরে নানা স্তরের বাধা থাকে। সমস্যাটা এখানেই। গত মাসেও আপডেট না হওয়ায় আমাকে ম্যানুয়ালি রিটার্ন জমা দিতে হয়েছে। এই মাসেও একই কারণে সেটাই করতে বাধ্য হয়েছি। এটিই বাস্তবতা।
এসএম/এমএমকে