অর্থনীতি

আগামী অর্থবছরে ০.৫০ শতাংশ উৎসে কর চায় গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ খাত

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ এবং এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছেন গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ প্রস্তুতকারকরা।

Advertisement

আগামী অর্থবছরের বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে এ প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।

বর্তমানে রপ্তানির বিপরীতে ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করা হয়, যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকরী মূলধন আটকে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ উৎসে করের হার কমানো হলে শিল্পখাত উৎসাহিত হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

তাই, গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ প্রস্তুতকারকরা প্রস্তাব করেছেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে করের হার ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হোক এবং এই করকে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচনা করা।

Advertisement

তাদের যুক্তি, বর্তমানে চূড়ান্ত কর নির্ধারণের সময় উৎসে কাটা কর সমন্বয় করা হয়, ফলে এটিকে চূড়ান্ত কর হিসেবে নির্ধারণ করলে সরকারের রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

যুক্তির পক্ষে বিজিএ পিএমইএ  বলেন,  বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন পণ্যে রপ্তানি প্রণোদনা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে উৎসে কর কমানো হলে রপ্তানি খাত উৎসাহিত হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি পাবে।

তারা মনে করেন, উচ্চ হারে উৎসে কর কাটার কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ডলার সংকট এবং আর্থিক ব্যয়ের বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে,  ব্যাক্তি আয়ের করমুক্ত আয়ের সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হলে কর প্রদানে আগ্রহ বাড়বে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে।

Advertisement

এছাড়া কোম্পানির সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানতের সুদ/মুনাফার উপর উৎসে কর ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকে বিনিয়োগে উৎসাহিত হয় এবং তারল্য সংকট মোকাবিলা করা সহজ হয়।

গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ খাতের উদ্যোক্তারা মনে করেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়বে, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়কৃত কাঁচামালের ওপর আরোপিত ১৫% ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। কারণ, যেসব কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাটমুক্ত, সেগুলো স্থানীয়ভাবে কিনলেও ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে, যা অযৌক্তিক।

প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে ক্রয়কৃত এসব কাঁচামালের ওপর ভ্যাট না রাখলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে না। এতে সরকারের রাজস্বে বড় ধরনের প্রভাব না পড়লেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২–এর “প্রচ্ছন্ন রপ্তানি” সংজ্ঞা সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই সংজ্ঞায় তিনটি শর্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক দরপত্র ছাড়া অন্য শর্তগুলোতে শুধু বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন ও স্থানীয় ঋণপত্রের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সংজ্ঞাটি আধুনিক ও বাস্তবসম্মত করতে সব ধরনের এলসি, সেলস কনট্রাক্ট, পারচেজ অর্ডারসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিল অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানি মূল্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আরটিজিএস, এফডিডি, এফটিটি ইত্যাদি লেনদেন পদ্ধতিকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, এতে বর্তমান বাণিজ্য বাস্তবতার সঙ্গে আইন সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

এমএএইচ/