রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও সহিংসতার মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
Advertisement
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে জামিন শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত শিল্পী বেগমকে জামিন দেন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি দায়ের করা বিস্ফোরক ও সহিংসতার এক মামলায় শিল্পী বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় দায়ের করা হয়েছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, বাদীর ছেলে মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল (২১), যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
Advertisement
আরও পড়ুনবিস্ফোরক মামলায় যুব মহিলা লীগ নেত্রী কারাগারে, শিশুসন্তান নিয়ে উদ্বেগ সাবেক ডিআইজি জলিলের স্বাস্থ্যগত তথ্য চেয়েছেন ট্রাইব্যুনাল
অভিযোগে বলা হয়, ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামির নির্দেশে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে বাদীর বাসায় হামলা চালায়। এতে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, লুটপাট এবং প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলায় বাদীর স্বামী মো. সোহেল রানা গুরুতর আহত হন এবং তার হাত ভেঙে যায় বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া হামলাকারীরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি ও হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ভিত্তিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীসময়ে তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখার আবেদন মঞ্জুর করেন।
Advertisement
শুনানিকালে আসামির স্বজন উম্মে কুলসুম সুমি আদালতে জানান, শিল্পী বেগমের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং তার হাত ভাঙা থাকায় আদালতে উপস্থিত থাকা কষ্টকর। একই সঙ্গে আসামি নিজেও দাবি করেন, তাকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে থাকা দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে কারাগারে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।
পরে পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে জামিন দেন।
এমডিএএ/কেএসআর