দেশজুড়ে

নওগাঁয় চার খুনের ঘটনায় মামলা, পুলিশ হেফাজতে ৫

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ জনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহত গৃহবধূ পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন, বড় বোন বোন ডালিমা, মেজ বোন হালিমা, ভাগনে সবুজ রানা ও ভগ্নিপতি শহিদুল।

নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ড ঘটার পর থেকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ও আলামত সংগ্রহ করে। আলামত বিশ্লেষণ ও পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে যেসব তথ্য বেরিয়ে আসছে তাতে মনে হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ড জমিজমাসংক্রান্ত এবং ওই পরিবারে আধিপত্য নিয়ে বিরোধের জেরেই হয়েছে।

Advertisement

তিনি আরও জানান, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি এই মুহূর্তেই গোপন রাখা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনা তদন্তে তথ্য প্রযুক্তি ও ইন্টেলিজেন্সের সহায়তা নিয়ে ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন মনে করলে তাদেরকেও পুলিশি হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷

এদিকে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বুধবার (২২ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে আগেও তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরমান হোসেন রুমন/এমএন/এমএস