লাইফস্টাইল

স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাইক্লিং কেন জরুরি

ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সংকটে পুরো পৃথিবী এখন স্থবির হতে বসেছে। হাহাকার চলছে জ্বালানির জন্য। অকটেন, পেট্রোল চালিত যানবাহনগুলো অনেকটাই এখন বন্ধ! রাস্তায় নামতে যানবাহনগুলোর যে পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন তা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পাম্প মালিকেরা। ঠিক এ সময় স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে আপনার প্রিয় বাহন হতে পারে বাই-সাইকেল। সাইক্লিং বাঁচাতে পারে সময় ও অর্থ।

Advertisement

আসুন জেনে নেওয়া যাক সাইক্লিংয়ের নানা দিকগুলো- যানজটে নিরসনে সাইক্লিং

যানজট নিরসনে সাইক্লিং হতে পারে অসাধারণ একটি মাধ্যম। শহরে যানজট থেকে বাঁচতে সাইকেল হতে পারে বিপদের বন্ধু। কম জায়গা লাগে বিধায় সাইকেলের জানজট লাগার চান্স শূন্যের কোঠায়। বিশেষ করে রাজধানী কিংবা বড় শহরে যে পরিমান যানজট লেগে থাকে সেখানে সাইকেলের ব্যবহারে যানজট কমিয়ে আনা সম্ভব।

পরিবেশ দূষিত করে না

সাইকেল এমন একটি বাহন, যা চালাতে কোনো তেল বা মবিলের প্রয়োজন হয় না, প্রয়োজন শুধু কায়িক পরিশ্রমের। দু’চাকার এই সহজ যানটি প্যাডেল চাপলেই চলতে শুরু করে, আর এটাই এর সবচেয়ে বড় সুবিধা। যেহেতু সাইকেল চালাতে কোনো ধরনের জ্বালানি লাগে না, তাই এতে পরিবেশ দূষণের কোনো ঝুঁকিও নেই।

স্বাস্থ্য থাকে ভালো

শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে চাইলে নিয়মিত সাইক্লিং একটি চমৎকার অভ্যাস হতে পারে। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই শারীরিক পরিশ্রম থেকে দূরে সরে যাচ্ছি, যার ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাইক্লিং হতে পারে সহজ ও আনন্দদায়ক একটি ব্যায়াম।

Advertisement

সাইকেল চালানোর মাধ্যমে শরীরের প্রায় সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একসঙ্গে কাজ করে। এতে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, পেশি শক্তিশালী হয় এবং শরীর আরও গতিশীল হয়ে ওঠে। নিয়মিত সাইক্লিং করলে শরীর ফিট থাকে এবং দৈনন্দিন কাজ করার শক্তিও বাড়ে। যারা সামান্য অসুখেই ওষুধের ওপর নির্ভর করেন, তাদের জন্য সাইক্লিং একটি প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ফলে ছোটখাটো অসুখ কম হয়।

তরুণ প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়

বর্তমান সময়ে হঠাৎ করেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাইক্লিংয়ের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়ে গেছে। একসময় শুধু প্রয়োজনের বাহন হিসেবে ব্যবহার হলেও এখন এটি হয়ে উঠেছে ট্রেন্ড, লাইফস্টাইল এবং ফিটনেসের অংশ। এর অন্যতম বড় কারণ হলো, সাইক্লিং সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব। এতে কোনো ধরনের জ্বালানি লাগে না, ফলে পরিবেশ দূষণও হয় না। এছাড়া সহজলভ্য থাকায় বর্তমান প্রজন্মের কাছে সাইক্লিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বাঁচবে সময় ও অর্থ

সময় ও অর্থ বাঁচাতে সাইক্লিং হয়ে উঠতে পারে এক বিশেষ আশির্বাদ। স্বল্প দূরত্বের রাস্তা কিংবা অর্থের অপচয় ঠেকাতে সাইক্লিং এর গুরুত্ব অপরীসীম। ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে দাঁড়িয়ে না থেকে ফাঁক-ফোকর দিয়ে বের হয়ে সঠিক সময় গন্তব্যে যেতে সাইকেল এক অসাধারণ বাহন। আপনি যদি চাকরিজীবি কিংবা ব্যবসায়ী হউন তবে টাইম ম্যানেজম্যান্টের ওপর গুরুত্ব দিতে চাইলে ব্যবহারে সাইকেলে ফিরতে পারে।

আরও পড়ুন:নারীরা কখন সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন? কাজের টেনশনই কি কাজ আরও পিছিয়ে দিচ্ছে?  বিপদের বন্ধু

বর্তমানে আমরা এক মহা সংকটের মধ্যে দিয়ে দিন অতিবায়িত করছি। হরমুজ প্রণালী খুলে না দেওয়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে বেশ হোঁচট খেতে হচ্ছে। ফিলিং স্টেশন গুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের চালকের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানির দেখা পাচ্ছেন না। এমতবস্থায় সাইকেল হতে পারে আপনার বিপদের বন্ধু।

Advertisement

যেসব রোগ থেকে মুক্তি মিলবে

সাইকেল চালানো হার্টকে শক্তিশালী করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এটি শরীরে ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়ায়। ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি কমে। সাইকেল চালারে শরীরের ক্যালোরি বার্ন হয়। ফলে স্থুলতা কমে। মস্তিকে হরমোন তৈরি করে। হাঁটু ও পায়ের পেশী শক্ত হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষমতা বাড়ে।

কতক্ষণ সাইক্লিং করবেন

সাইকেল চালানো শরীর ও মনের জন্য উপকারী হলেও, এটি নিয়ে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে চালানো উচিত নয়। উপকার পেতে হলে নিয়ম মেনে সাইক্লিং করাই সবচেয়ে ভালো। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সাইকেল চালানোই যথেষ্ট। খালি পেটে না চালানোই ভালো। দীর্ঘ সময় ধরে সাইকেল চালালে শরীরে অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নিন।

এসএকেওয়াই