দীর্ঘ ২৭ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরলেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার প্রবাসী আমির হোসেন তালুকদার (৬২)। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাতিক এয়ারের (OD162) ফ্লাইটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।
Advertisement
বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও পরিবারের সদস্যরা তাকে গ্রহণ করেন। এরপর ব্র্যাক তাকে শরীয়তপুরে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। আমির হোসেনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ব্র্যাক।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে ব্র্যাক জানিয়েছে, ১৯৯৬ সালে জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান আমির হোসেন। প্রবাস জীবনের শুরুতে প্রথম তিন বছর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও পরবর্তী ২৭ বছর তার কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বজনরা ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো তিনি আর বেঁচে নেই। এ কারণে ৩০ বছর পর বাবাকে পেয়ে ছেলে বাবু তালুকদারসহ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আমির হোসেনের ছেলে বাবু তালুকদার জানান, তার বাবা মালয়েশিয়ায় রঙয়ের কাজ করতেন। প্রথম দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। কিছু অর্থও পাঠিয়েছিলেন। তবে হঠাৎ করেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার তার মৃত্যুর আশঙ্কা করছিল।
Advertisement
ব্র্যাক বলছে, সম্প্রতি মালয়েশিয়া প্রবাসী কয়েকজন বাংলাদেশি পেনাংয়ের একটি জঙ্গলে গিয়ে একটা ছোট্ট টিনের ঘরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় তাকে দেখতে পান। সেখান থেকে তারা তাকে উদ্ধার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রবাসী সাংবাদিক বাপ্পি কুমার দাস এবং প্রবাসী দিপুর প্রচেষ্টায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তারা ব্র্যাকের কাছেও বিষয়টি জানায়। দেশে থাকা আমিরের পরিবার তখন তাকে শনাক্ত করে। এরপর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে ট্রাভেল পাস দিয়ে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, ৩০ বছর ধরে একজন প্রবাসে। পরিবারের সদস্যদের সাথে ২৭ বছর ধরে যোগাযোগ না থাকার ঘটনা ভীষণ বেদনাদায়ক। এমন একজনকে পরিবার খুঁজে পেতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন। এই ফিরে আসা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি।
তবে এই ঘটনা প্রবাস জীবনের অনিশ্চয়তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন, কিন্তু কেউ তাঁর খোঁজ জানে না। অতীতেও আমরা এমন ঘটনা দেখেছি। এমন সংকটে আরও কতোজন আছে তাও আমরা জানি না। অথচ প্রত্যেক প্রবাসীর খোঁজ রাখা জরুরি। এই প্রযুক্তির যুগে প্রত্যেক প্রবাসীর ডাটাবেজ করা অসম্ভব নয়, বরং জরুরি। কারণ তারা এই দেশের মানুষ এবং আমাদের অর্থনীতি সচল রাখেন।
আরএএস/এএমএ
Advertisement