প্রথম ম্যাচে কোনো উইকেট পাননি, বাংলাদেশ হেরেছে ২৫ রানে। তবে পরের ম্যাচে রীতিমত নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়েছিলেন। ১০ ওভার বোলিং করে ৩২ রান খরচায় নেন ৫ উইকেট। এমন নাহিদ রানাকে নিয়ে যে কোনো কোচই প্রশংসায় ভাসাবেন। বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইট অবশ্য একটু বেশিই গর্বিত। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে রানাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনুসের কথাও মনে পড়েছে শন টেইটের।
Advertisement
এই সিরিজে নাহিদ রানার ইয়র্কার মনে ধরেছে শন টেইটের। এমনকি সেটা নাকি তাকে পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনুসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। টেইট বলেন, ‘এই সিরিজে যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে, সেটা হলো শেষ ম্যাচে তার ইয়র্কারগুলো। সেটা আমাকে ওয়াকার ইউনুসের বোলিংয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। দ্রুতগতির বোলার এসে শুরুতে উইকেট নেয়, তারপর শেষ দিকে দ্রুত ইয়র্কার দিয়ে লেজ গুটিয়ে দেয়—এটা দেখতে আমার দারুণ লাগে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এটা ভীষণ উপভোগ করি।’
ইয়র্কার পারেন, স্লোয়ার পারেন, দ্রুতগতিতে বাউন্সার দিয়ে ব্যাটারকে ভড়কে দিতেও পারেন। রানাকে আর কোনো ভেরিয়েশন যোগ করতে হবে কিনা প্রশ্নে শন বলেন, ‘কখনও কখনও ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে, আধুনিক ক্রিকেটে—বিশেষ করে টি–টোয়েন্টিতে—অনেক ধরনের ডেলিভারি করার একটা প্রলোভন থাকে। তবে নাহিদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, সে খুবই বুদ্ধিমান একজন ছেলে। এই মুহূর্তে বিষয়টা খুব জটিল না করে, যেটা তার জন্য কাজ করছে সেটাই ভালো।’
স্লোয়ার থাকলেও রানার ক্ষেত্রে সেটা অত বেশি দরকার নেই বলে মনে করেন শন। বরং তার চাওয়া রানা দ্রুত গতিতে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করে যাক। টেইট বলেন, ‘তার স্লোয়ার বল আছে ঠিকই, কিন্তু যদি সেটি করার প্রয়োজন না হয়, তাহলে করতেই হবে এমন কিছু নয়। নাহিদের মতো বোলারের ক্ষেত্রে, যেখানে অন্যদের বিভিন্ন চেঞ্জ-আপ ডেলিভারি করতে হয়, সেখানে সে দারুণ বাউন্সার করতে পারে। অনেক বোলারের ক্ষেত্রে স্লোয়ার বলই বড় অস্ত্র হয়, কারণ ১৩০ কিলোমিটার গতির বোলারদের এমন ভয়ংকর বাউন্সার থাকে না। তাই তাদের জন্য সেটি উইকেট নেওয়ার বড় উপায়। কিন্তু নাহিদ রানার ক্ষেত্রে বিষয়টা উল্টো। এই মুহূর্তে সে তার গতি এবং বাউন্সের কারণে শর্ট বল থেকেই অনেক উইকেট পাচ্ছে। দেখুন, সে বুদ্ধিমান একজন ছেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে আরও কিছু বিষয় উন্নত করবে। তবে এই মুহূর্তে আমি চাই, সে বিষয়টা সহজ রাখুক এবং দ্রুতগতিতেই বল করে যাক।’
Advertisement
সোমবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রীতিমত গতির ঝড় বইয়ে দিয়েছেন নাহিদ রানা। সেদিন সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইনিংসের প্রথম বল থেকে শুরু করে দশম ওভারের শেষ বল, নাহিদ রানা টানা ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বোলিং করে গেছেন। পুরো ১০ ওভারে ৫৯টি বৈধ ডেলিভারিই তিনি করেছেন ১৪০ কিমি গতির ওপরে।
টেইট মনে করেন, এই গরমে এভাবে টানা বোলিং করে যাওয়া সেটাও এই ধরনের গতিতে, এটাই প্রমাণ করে কতটা ফিট নাহিদ রানা। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ বলেন, ‘আসলে এই ধরনের কন্ডিশনেও এটি তার ফিটনেসের মাত্রাটাই দেখায়। এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। যদি এত গরমের মধ্যেও সে পুরো দশ ওভার দৌড়ে এসে ওই গতিতে বল করতে পারে, তাহলে সেটা সত্যিই উৎসাহজনক। সে দলের জন্য একটি সম্পদ—নিঃসন্দেহে সে একটি বড় সম্পদ।’
‘আমার মনে হয় নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতে তার একটু সময় লেগেছে, আর এখন সে দেখাতে শুরু করেছে সে কী করতে পারে। বিশ্বের মানুষও ধীরে ধীরে তাকে লক্ষ্য করতে শুরু করেছে। কারণ পিএসএলে যখন সে পেশোয়ার জালমির হয়ে খেলেছিল, তখন তাকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, যখন কোনো তরুণ বোলার ১৪৫–১৫০ গতিতে বল করে, তখন সেটা সবার মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা তৈরি করে। এই মুহূর্তে আমি শুধু এটুকুই বলব—সে ভালো আছে এবং তার সঙ্গে কাজ করতে আমার দারুণ লাগছে।’
এসকেডি/এমএমআর
Advertisement