বিনোদন

গয়না-গান ও হাসি হারিয়ে যাওয়া নারীর জীবন, ভাইরাল শাহনাজ খুশির স্ট্যাটাস

বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে নারীজীবনের বাস্তবতা, নিঃশব্দ ক্লান্তি এবং পারিবারিক জীবনে একজন নারীর অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অনুভূতি তুলে ধরেছেন। তার এই লেখা প্রকাশের পর থেকেই নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।

Advertisement

স্ট্যাটাসে শাহনাজ খুশি লেখেন, একজন নারী যখন সংসারী জীবনে ঢুকে যান বিশেষ করে মা বা পরিবারের দায়িত্বশীল একজন হয়ে ওঠেন তখন তার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ অনেকটাই গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। কী তার প্রিয় রং, কী খেতে ভালোবাসেন, কোন গয়না পছন্দ এসব আর কেউ জানতে চায় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও লেখেন, একসময় যে মানুষটি উচ্চস্বরে গান গেয়ে ঘর গোছাতেন, তার সেই স্বতঃস্ফূর্ততা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। হাসি, আনন্দ বা মন খারাপ সবকিছুই যেন রুটিনের ভেতর চাপা পড়ে যায়। কারও অপেক্ষা করাও একসময় গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। বরং বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।স্বামী বৃন্দাবন দাশ ও দুই পুত্র দিব্য-সৌম্যের সঙ্গে শাহনাজ খুশি

শাহনাজ খুশির ভাষায়, একজন নারী তখন পরিবারের জন্য ‘ভীষণ প্রয়োজনীয়’ হয়ে ওঠেন। রান্না, সংসার, বাজার, দায়িত্ব সবখানেই তার ভূমিকা থাকে। কিন্তু সেই প্রয়োজনের ভেতরেই তার নিজের আবেগ, স্বপ্ন ও ভালোবাসা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়।

Advertisement

স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, উপার্জন বা অবস্থান থাকলেও অনেক সময় একজন নারীর ভেতরের অনুভূতি ও ভালোবাসার জায়গাটি উপেক্ষিত থাকে। তার মতে, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো এই উপেক্ষা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়ও অনেক সময় থাকে না। কারণ একজন নারী নিজের ভালোবাসা ও আবেগ অনেক গভীরে রোপণ করে ফেলেন।

অভিনেত্রী জানান, তার সবচেয়ে প্রিয় গয়না নূপুর ও নাকফুল। সংগ্রামের জীবনে কখনো কাউকে না বলেই, আবার কখনো সবার সামনে নিজের জন্য নূপুর উপহার দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি লেখেন, ‘এখন বললে হয়তো বলবে এই বয়সে এসব ছেলেমানুষী!’দুই পুত্রের সঙ্গে 

কিন্তু প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘এই বয়সটা কি শুধু আমার? মাঝের বয়সটা কার ছিল?’

Advertisement

তার মতে, একজন নারীর পুরো জীবনই ভাগ হয়ে যায় দায়িত্ব আর সম্পর্কের ভেতরে। কিন্তু সেই জীবনের প্রকৃত অনুভূতির হিসাব অনেক সময়ই কেউ রাখে না।

শাহনাজ খুশির এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই একে নারীর নীরব বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন এবং বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া।

 

এলআইএ