শিক্ষা

সংঘর্ষের পর চট্টগ্রাম সিটি কলেজ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনার পর কলেজ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

বুধবার (২২ এপ্রিল) কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ছালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে বৃহস্পতিবার কলেজের সব শ্রেণির পাঠদান এবং অভ্যন্তরীণ সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ২০২৪ সালের ডিগ্রি (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে ডিগ্রি (পাস) তৃতীয় বর্ষের নির্বাচনি পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। ২২ ও ২৩ এপ্রিলের স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরে জানানো হবে।

কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসের একটি দেয়ালচিত্র বা গ্রাফিতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত। সেখানে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস’। সোমবার রাতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী গ্রাফিতি থেকে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার ওপরে ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

Advertisement

আরও পড়ুনচট্টগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ২৫ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

মঙ্গলবার সকালে প্রথম দফায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় দুপুর ১২টার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করে।

সকালের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রশিবিরের একটি তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এসময় উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

Advertisement

সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের কর্মী আশরাফুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তার ডান পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে সহপাঠীরা জানিয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বুধবার তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।

কলেজ প্রশাসন জানায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এমআরএএইচ/এমআইএইচএস