খেলাধুলা

আলোচনায় সাগরিকার হলুদাভ মাঠ, দেখার মতো বাস্তবেও কি এত খারাপ!

‘আউটফিল্ডের চেয়ে উইকেটেই কি জীবন্ত ঘাস বেশি মনে হলো’- নিউজিল্যান্ড পেসার উইল ও’রর্কি প্রশ্নটা শুনে একটু থমকেই গেলেন! আসলে প্রশ্নটা অবধারিতই ছিল। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড নিয়ে আলোচনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। বছর জুড়েই পর্যাপ্ত পানি না পাওয়া আউটফিল্ডে মরা ঘাস নিয়ে আলোচনা হতেই থাকে। তবে এবার যেন একটু বেশিই হলুদাভ লাগলো।

Advertisement

ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে আগামীকাল সকাল ১১টায় মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড। সিরিজে ১-১ সমতা থাকায় এটি হতে যাচ্ছে অঘোষিত ফাইনাল। এমন ম্যাচের আগে উইকেটের সঙ্গে আউটফিল্ডও আলোচনায় আছে।

এমন হলুদাভ আউটফিল্ড দেখে উইলের মনে হচ্ছে বল দ্রুত বাউন্ডারিতে পৌছাবে। তিনি বলেন, ‘দেখতে একটু শুকনোই লাগছে। মনে হচ্ছে বলটা বেশ দ্রুত যাবে, তাই ইনফিল্ডারদের পাশ কাটিয়ে গেলে হয়তো দ্রুত বাউন্ডারির দিকে চলে যাবে।’

আর বাংলাদেশের বোলিং কোচ শন টেইটের কাছে আউটফিল্ডের চেহারাই হোক সেটা ঠিকটাক লেগেছে। তিনি বলেন, ‘না, ঝুঁকিপূর্ণ না। যা আছে তাই আছে, ঠিকই আছে। মানে এটাই তো এই পৃষ্ঠের স্বাভাবিক অবস্থা। এই মাঠ নিয়ে আমার তেমন গভীর কোনো মন্তব্য নেই। আমার কাছে সবকিছুই ঠিকঠাক মনে হচ্ছে।’

Advertisement

চট্টগ্রামের এই মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়াম তজেকে সাগরের দূরত্ব খুব বেশি না। ফলে সাধারণ পাম্প ব্যবহার করে পানি দিলে সেটা হয়ে যায় লবনাক্ত। যেটা কিনা ঘাসের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এজন্য গভীর নলকূপ প্রয়োজন হয়, আর এই জায়গাতেই মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে এই ভেন্যুর জন্য। অনেকদিন ধরে ওয়াসা থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রামের এই মাঠ এবং পাশের অনুশীলন মাঠ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় চার লাখ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিসিবি বর্তমানে পাচ্ছে প্রায় এক লাখ লিটার পানি।

সবশেষে, বাংলাদেশের সবচেয়ে স্মরণীয় অনেক জয়ের সাক্ষী এই মাঠের ধূসর চেহারার পেছনে মূল কারণটি একটাই- মিঠা পানির সংকট। বাংলাদেশের বাকি স্টেডিয়ামগুলোতে নিজস্ব পানি তোলার ব্যবস্থা থাকলেও চট্টগ্রামে এতদিন ছিল। যদিও নতুন করে স্টেডিয়ামেই ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

এ নিয়ে চট্টগ্রামের পিচ কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে একটি গভীর নলকূপের ব্যবস্থা করেছি; এখন শুধু সেটি চালু করতে হবে। তবে এখানে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, কারণ যেকোনো জায়গায় এটি বসানো যায় না। এটি একটি উপকূলীয় এলাকা, যেখানে সর্বত্র লবণাক্ততার প্রভাব রয়েছে।’

নিউজিল্যান্ড সিরিজের একটি ওয়ানডে ও ২টি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এই তিন ম্যাচকে সামনে রেখে গত ৯ এপ্রিল থেকে মাঠে পানি দেওয়া শুরু হয়। সেটাও মিঠা পানির সংকটের কারণে গত পাঁচ দিন ধরে সেই পানি দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এ কারণেই আউটফিল্ড আরও ধূসর রঙ ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাবু।

Advertisement

তিনি বলেন, ‘মাত্র চারদিন আগেও পুরো মাঠ সবুজ ছিল। কিন্তু গত চার–পাঁচ দিনে আমরা ঠিকমতো মাঠে পানি দিতে পারিনি, আর এজন্যই এখন এটি ধূসর হয়ে গেছে।’ তবে চেহারা যতটা খারাপ দেখাচ্ছে বাস্তবে ততটা খারাপ নয় বলেও নিশ্চিত করেন বাবু, ‘বাইরে থেকে যেমনটা দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে বিষয়টা ততটা খারাপ নয়। মাঠে নামলে আসলে কেমন তা দেখতে পারবেন।’

এই মাঠের পানি সরবরাহে বিসিবি একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন প্রেস বক্সে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন আমরা ওয়াসার সহযোগিতায় ৮৫০ ফুট গভীর একটি উৎসের প্রকল্প নিয়েছি। তিনটি সম্ভাব্য জায়গায় বোরিং করার অনুমতি পেয়েছি। সেখানে ব্যবহারযোগ্য পানি পাওয়া যায় কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ওয়াসা আমাদের অনেক সহায়তা করছে।’

এসকেডি/আইএইচএস/