আইন-আদালত

অসত্য সাক্ষ্য দিইনি, আমার ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী

র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিপরীতমুখী অবস্থান তুলে ধরেছেন আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিপক্ষের রাষ্ট্রীয় খরচে নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মো. আমির হোসেন দাবি করেন, এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়ী নন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী এ দাবি নাকচ করে আদালতে বলেন, গুম-নির্যাতন এবং আমার ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী।

Advertisement

বুধবার (২২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে তিনি এ দাবি করেন। এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান, শাইখ মাহদী ও তাসমিরুল ইসলাম উদয়সহ অন্যান্যরা।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে গত ১৯ এপ্রিল জবানবন্দি দেন মাসরুর আনোয়ার। পরদিন ২০ এপ্রিল তার প্রথম দিনের জেরা সম্পন্ন হয়। এর ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় দিনের মতো আজও তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এদিন পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে জেরা করেন আইনজীবী আমির হোসেন। তিনি দাবি করেন, গুম-নির্যাতন বা মাসরুরের ক্যারিয়ার নষ্টের জন্য শেখ হাসিনা দায়ী নন; বরং সাক্ষী নিজেই দায়ী এবং রাজনৈতিক মতভেদের কারণে অসত্য সাক্ষ্য দিয়েছেন। জবাবে মাসরুর বলেন, তিনি কোনো মিথ্যা বলেননি এবং সব কিছুর জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী।

Advertisement

এ মামলায় ১৭ আসামির মধ্যে সাবেক-বর্তমান ১০ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক অন্যরা হলেন— শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশীদ হোসেন, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও র‍্যাবের সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. খাইরুল ইসলাম।

এফএইচ/এমএএইচ/

Advertisement