প্রাচ্যের কবি আল্লামা মোহাম্মদ ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘নবজাগরণের ভাবনা ও ইকবাল স্মরণ সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
Advertisement
বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাবির ঐতিহাসিক বটতলায় এ অনুষ্ঠান হয়। এতে ইকবালবিষয়ক পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ইকবালিয়াত আলোচনা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণরা অংশ নেন। শুরুতে একাডেমিক আলোচনা সভা হয়, যেখানে বক্তারা আল্লামা ইকবালের দর্শন, চিন্তাধারা ও সমসাময়িক বিশ্বে তার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ঢাবির দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল উলাই, ইরানি কবি ও আলেম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখি রাদ এবং ঢাবির উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। উপস্থিত ছিলেন কবি জাকির আবু জাফর, লেখক ও গবেষক মুহাম্মদ তানিম নওশাদ, ড. ফজলুল হক তুহিন, ইকবাল গবেষক আবদুল কাদের জিলানী এবং গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি আরিফ সোহেল।
Advertisement
উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে ছিল ‘ফিকরে ইকবাল’ গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে ইকবালিয়াত অধ্যয়ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, গজল ও কাওয়ালি পরিবেশনা এবং লাইভ কুইজ প্রতিযোগিতা, যা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের যথাক্রমে চার হাজার, তিন হাজার ও দুই হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম পাঁচজনকে মূল্যবান বই ও সনদ দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আল্লামা ইকবালের চিন্তাধারা ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
বক্তারা বলেন, ইকবাল শুধু পাকিস্তানের কবি নন, তিনি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কবি, যার কবিতা মুসলিম জাতিকে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে জাগিয়ে তুলেছে এবং উপমহাদেশে দীর্ঘদিনের দাসত্বে আবদ্ধ জনগণকে সচেতনতা দান করেছে।
Advertisement
অনুষ্ঠানে ইরান থেকে আগত বক্তা ইকবালের কবিতার ওপর আলোকপাত করে বলেন, ইকবালের কাব্য শুধু পাকিস্তান নয়, ইরানের জন্যও জাগরণের বার্তা বহন করে। আজ ইরানি জাতি যে ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে, তার পেছনেও ইকবালের চিন্তাধারার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যা ইরানের তরুণদের জাগ্রত করেছে।
সামাজিক ও বিপ্লবী নেতা আরিফ সোহেল বলেন, ইকবালের কবিতা প্রতিটি যুগের বিপ্লবের জন্য মৌলিক ভূমিকা পালন করে। আজ বাংলাদেশের তরুণরা পূর্ববর্তী সরকার ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে যে সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা ইকবালের চিন্তা থেকে অর্জিত চেতনারই বহিঃপ্রকাশ, যা আমাদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছে।
দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাওসার জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইকবালের দর্শন পড়ানো হচ্ছে এবং তার ওপর শিক্ষার্থীরা নিয়মিত গবেষণাপত্র রচনা করেন।
উর্দু বিভাগের অধ্যাপক ড. রব্বানী বলেন, ইকবাল সবসময় মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা, মুসলিম সভ্যতা পুনর্জাগরণ এবং বিভেদ ভুলে ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছেন। আজ মুসলিম উম্মাহ পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে নিজেদের পরিচয় হারাচ্ছে, যেখানে আমাদের টিকে থাকা নির্ভর করে ইকবালের দর্শন অনুযায়ী ইসলামী শিক্ষা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে গ্রহণ করার ওপর।
এছাড়া অন্য বক্তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইকবাল চিন্তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা নিয়ে আলোচনা করেন এবং উপস্থিত শ্রোতাদের এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।
সমাপনী পর্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিশুদের জন্য আল্লামা ইকবালের বিখ্যাত দোয়া সুরের সঙ্গে পরিবেশন করে। পাশাপাশি ইকবালের জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি প্রশ্নোত্তর প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে কাওয়ালি দল ‘সিলসিলা ব্যান্ড’ ইকবালীয় কাওয়ালি পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
এফএআর/একিউএফ