খেলাধুলা

‘জিদান অভিশাপ’ থেকেই কী তবে বের হতে পারছে না ইতালি?

২০২৬ বিশ্বকাপও খেলতে পারছে না চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। এবার নিয়ে টানা তিনবার বিশ্বকাপের বাইরে আজ্জুরিরা। এবার বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফ ফাইনালে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনের আগেই বিদায় নিতে হলো ইতালিকে।

Advertisement

বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে হেরে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পরই ইতালি ফুটবল ভক্তদের মধ্যে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বহুল আলোচিত সেই ‘জিদান অভিশাপ’ তত্ত্ব।

প্লে-অফে নাটকীয় হার

৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্র করে ইতালি। ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকারে, যেখানে ইতালি ৪-১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয়। এ পরাজয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়- ২০২৬ বিশ্বকাপেও দেখা যাবে না ইতালিকে।

‘জিদান অভিশাপ’ কিভাবে এল আলোচনায়

‘জিদান অভিশাপ’ কথাটি প্রথম আলোচনায় আসে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের পর। ওই ম্যাচে হঠাৎ করেই ইতালিয়ান ফুটবলার মার্কো মাতেরাজ্জিকে হেডবাট করে আঘাত করেন এবং লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বহিস্কার হন। যদিও ওই ম্যাচে ইতালি টাইব্রেকারে শিরোপা জয় করে নেয়; কিন্তু এরপর থেকেই তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা যেন অভিশপ্ত হয়ে পড়ে- এমনটাই মনে করেন অনেক ভক্ত।

Advertisement

২০০৬-এর পর ইতালির বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স

২০০৬ সালে শিরোপা জয়ের পর থেকে ইতালির পারফরম্যান্স ধারাবাহিকভাবে হতাশাজনক—

২০১০ (দক্ষিণ আফ্রিকা): গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়২০১৪ (ব্রাজিল): আবারও গ্রুপ পর্বেই বিদায়২০১৮ (রাশিয়া): বাছাই পবেৃ প্লে-অফে সুইডেনের কাছে হেরে মূল পর্বে উঠতেই পারেনি২০২২ (কাতার): এবারও বাছাই পর্বে নর্থ মেসেডোনিয়ার কাছে প্লে-অফে হেরে বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হয়।২০২৬ (উত্তর আমেরিকা): বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফ ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে আবারও বিদায়।

জিদানের সেই হেডবাটের ঘটনার পর এমন বাজে পারফরম্যান্স- স্বাভাবিকভাবেই ইতালির এই অবস্থার জন্য জিদানের হেই হেডবাটকে দায়ী করছেন ভক্ত-সমর্থকরা।

গভীর সংকটে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা ইতালিয়ান ফুটবলের বড় সংকটকেই সামনে এনেছে। সমালোচকরা বলছেন, সমস্যা শুধুই কুসংস্কার বা ‘অভিশাপ’ নয়- বরং দল গঠন, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতার ঘাটতিই এর পেছনে মূল কারণ।

Advertisement

দীর্ঘ সময়ের হতাশা

২০২৬ বিশ্বকাপে না থাকায় ইতালির জন্য একটি হতাশাজনক পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, টানা ১২ বছর বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। শেষ ২০ বছরে একবারও নকআউট পর্বে খেলতে পারেনি।

ইতালির এই পতন শুধু একটি দলের ব্যর্থতা নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের এক ঐতিহ্যবাহী শক্তির দীর্ঘমেয়াদি সংকটের প্রতিচ্ছবি। এখন দেখার বিষয়- অজ্জুরিরা কীভাবে এই অন্ধকার সময় কাটিয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা ফিরে পায়।

সূত্র: মার্কা

আইএইচএস/