ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া মে মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে পারে৷ আর জুনের মাঝামাঝি ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম।
Advertisement
উপাচার্য জানান, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং জুনের মাঝামাঝি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
সেশনজট নিরসনে ক্রাশ প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ৮ মাসের প্রোগ্রাম ৬ মাসে শেষ করা হবে এবং পরীক্ষার দুই মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগের সেশনগুলো আগের নিয়মেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকবে।
Advertisement
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম বলেন, চলমান সেশনগুলোর সঙ্গে আমাদের কার্যক্রমের কোনো সংযোগ থাকবে না। ঢাকা ইউনিভার্সিটি আগের নিয়মে পরীক্ষা নেবে। চলমান সেশনগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে অতিরিক্ত জনবল ও জটিলতা তৈরি হবে। তবে শিক্ষার্থীরা চাইলে তাদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে নানান উদ্যোগের কথাও জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, সাতটি ক্যাম্পাসে ফ্রি ওয়াইফাই নিশ্চিত করা হবে এবং মানসম্মত বইয়ের অভাব দূর করতে ই-লাইব্রেরির ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, আইসিটি শিক্ষার প্রসার এবং গবেষণার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
রাজধানীর সাতটি সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেটের মাধ্যমে আইনি স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর ১ এপ্রিল উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীদের নানান সংকট রয়ে গেছে। এসব সংকট নিয়ে আলোচনা করতে উপাচার্য সাতটি ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
Advertisement
গত ১২ এপ্রিল ঢাকা কলেজে অনুষ্ঠিত এক সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের এক শিক্ষার্থী উপাচার্যের কাছে সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—একাডেমিক সমন্বয় নিশ্চিত করা, স্বতন্ত্র একাডেমিক পরিচয় প্রতিষ্ঠা, সেশনজট নিরসন, সময়োপযোগী পরীক্ষা ব্যবস্থা, কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো ও শিক্ষক নিয়োগ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের উন্নয়ন।
একই সঙ্গে চলমান সব সেশনকে ডিসিইউর অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানায় শিক্ষার্থীরা। সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরাই তাদের দাবি উপাচার্যের কাছে তুলে ধরেন এবং তিনি এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
এএএইচ/এমকেআর