অর্থনীতি

চাল-চিনি-ডিম-পেঁয়াজের দাম বাড়তি, কমেছে মুরগি-সবজির

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে সব পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে নতুন করে চাল, চিনি, ডিম, পেঁয়াজের মতো কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আগে চড়া থাকায় সোনালি মুরগি ও বেশ কিছু মৌসুমি সবজির দাম এখন কমেছে। তবে দামের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় বিপাকে পড়েছে সীমিত আয়ের মানুষ।

Advertisement

অন্যদিকে, খুচরা বাজারে এখনো বোতলজাত ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবকি হয়নি। বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনছেন বেশিরভাগ মানুষ। আর সেজন্য গুণতে হচ্ছে চড়া দাম।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

এদিকে, যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে সেসব পণ্যের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল সংকটে মাসখানেক ধরে ট্রাকভাড়া বাড়তি। এরমধ্যে চলতি সপ্তাহে তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার, যার প্রভাব পড়েছে। এ কারণে কিছু পণ্যের দর বেড়েছে।

Advertisement

তারা জানিয়েছেন, সরকার ডিজেলের কারণে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ালেও পণ্যবাহী ট্রাকগুলো এরই মধ্যে ভাড়া দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়েছে।

এসব কারণে গত এক সপ্তাহে ঢাকার বাজারে মাঝারি চালের (বিআর-২৮ ও পায়জাম) কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এ মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৫৩ থেকে ৬০ টাকা। মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) ও সরু চালের (মিনিকেট) দামও কোথাও কোথাও ২/১ টাকা বাড়তি বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের কেজি ৫২ থেকে ৫৫ এবং মানভেদে সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খিলগাঁও তালতলা বাজারে চাল বিক্রেতা এনামুল বলেন, আমনের নতুন চাল বাজারে আছে, ভারত থেকে চাল আমদানিও হচ্ছে। অন্যদিকে, বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ ছিল না। শুধু তেলের কারণে যে বাড়তি খরচ হচ্ছে এজন্য চালের দাম এক দুই টাকা বেশি পড়ছে।

আরও পড়ুন:জ্বালানির সংকটে ‘অদৃশ্য মূল্যস্ফীতি’ তৈরি হয় ভোগ্যপণ্যের আমদানি-মজুত স্থিতিশীল, উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী 

Advertisement

তিনি জানান, জ্বালানির তেলের সংকটের অজুহাতে ট্রাকমালিকরা মাসখানেক আগে ভাড়া দুই-আড়াই হাজার টাকার মতো বাড়িয়েছেন। এখন পাঁচ হাজার পর্যন্ত বাড়তি।

বাজারে চিনির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা ছিল। অন্যদিকে, প্যাকেট চিনির কেজি ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বেড়েছে পেঁয়াজেরও। এক সপ্তাহ আগে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কেনা যেত, যা এখন ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ফার্মের মুরগির ডিমের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে চড়া। আগে ১০০ থেকে ১১০ টাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। খুচরা দোকানে পাড়া-মহল্লায় কোথাও কোথাও প্রতি হালি ডিমের দাম ৫০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ দাম পড়ছে দেড়শো টাকা ডজন।

তবে সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির দর কমছে। খুচরা বিক্রেতারা ব্রয়লারের কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ এবং সোনালি জাতের মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেও সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এরআগে দাম ৪৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

গত সপ্তাহের চেয়ে এই সপ্তাহে সবজির দাম বেশ কমেছে। বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। এরমধ্যে গ্রীষ্মের সবজি করলা, বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটির দাম কম। চিচিঙা, সজনে ডাটা, কাকরোল ও ধুন্দল কিনতে খরচ হচ্ছে একটু বেশি।

সবজি বিক্রেতা কালাম হোসেন বলেন, প্রচুর সবজির সরবরাহ থাকায় সবজির দাম প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কেজিতে কমেছে।

এনএইচ/এসএনআর