পাঁচ বছর বয়সি তাওহীদ জন্ম থেকেই দৃষ্টিশক্তিহীন। পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাহিদ হাওলাদার দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের সঙ্গে লড়াই করে সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও এখন থমকে দাঁড়িয়েছে সেই প্রচেষ্টা। চিকিৎসকদের মতে, যথাসময়ে অস্ত্রোপচার করা গেলে তাওহীদের চোখে আলো ফিরতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
Advertisement
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে জাহিদ ও তুলি দম্পতির বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর তাদের কোলজুড়ে আসে তাওহীদ। কিন্তু জন্মের পরপরই ধরা পড়ে শিশুটি দৃষ্টিশক্তিহীন এবং চোখের গঠনে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে। এই কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরে মা তুলি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে শিশুটিকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সেই ঘটনার পর থেকে তাওহীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়েছে, এমনকি তার কণ্ঠস্বরও স্পষ্টভাবে গড়ে ওঠেনি।
এদিকে সন্তানের চিকিৎসার জন্য শুরু থেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাবা জাহিদ। বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ সব মিলিয়ে এরই মধ্যে তার সঞ্চিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। এমনকি চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি তার চাকরিটিও হারিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ বেকার এবং পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাওহীদের বয়স এখন অপারেশনের জন্য উপযুক্ত। দ্রুত অস্ত্রোপচার করা গেলে তার চোখের গঠন কিছুটা স্বাভাবিক করা সম্ভব এবং সে আংশিক বা পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারে। তবে এই চিকিৎসা ব্যয়বহুল, যার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা।
Advertisement
কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে জাহিদ বলেন, ‘আমি একজন অসহায় বাবা। আমার ছেলেটা জন্ম থেকেই অন্ধ। তার চোখে আলো নেই, কিন্তু আমি প্রতিদিন স্বপ্ন দেখি সে একদিন আমাকে দেখে ‘বাবা’ বলে ডাকবে। অনেক চেষ্টা করেছি, যা ছিল সব খরচ করে ফেলেছি। এখন আর কিছুই নেই। মানুষের কাছে হাত পাতা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই। আপনারা যদি একটু সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়ত আমার ছেলেটা নতুন করে জীবন পাবে।’
তাওহীদের প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম বলেন, ছেলেটাকে ছোটবেলা থেকে দেখছি। জন্ম থেকেই সে অন্ধ। জাহিদ অনেক কষ্ট করে চিকিৎসা চালিয়েছে, কিন্তু এখন আর পারছে না। আমরা চাই, সমাজের সবাই এগিয়ে এসে শিশুটিকে বাঁচাতে সাহায্য করুক।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, তাওহীদের বিষয়টি খুবই মানবিক ও স্পর্শকাতর। পরিবারটি যদি কুয়াকাটা পৌরসভায় একটি লিখিত আবেদন করে, তাহলে আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবো এবং আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি, যেন শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/এফএ/এএসএম
Advertisement