ক্যাম্পাস

‘গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করবো’, ছাত্রদল নেতার বক্তব্যে সমালোচনার ঝড়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুকের একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি আইন হাতে তুলে নিয়ে ‘গুপ্ত শিবির’ কর্মীদের হত্যার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভ মিছিলে ওমর ফারুক বলেন, ‘জিয়া পরিবারকে নিয়ে যদি কোনো অশ্লীল স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, তাহলে হয় আমরা মারবো, নয় আমরা মরবো। হয় আমরা ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো আইন হাতে তুলে নিয়ে গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব।’

চট্টগ্রামের সিটি কলেজে ছাত্রদলের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সমাবেশে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের পরিবারকে নিয়ে নোংরামি করলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের অস্তিত্ব থাকতে দেওয়া হবে না।

ওমর ফারুক বলেন,‘গুপ্ত শিবির ভাইদেরকে বলতে চাই, আপনারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে আসেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতায় আছি। কিন্তু সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে, নারীদের নিয়ে, তারেক রহমানের পরিবারকে নিয়ে যদি নোংরামি করেন, তার অস্তিত্ব ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল হতে দেবে না।’

Advertisement

তার এই বক্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা শুক্রবার নিজ ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে লেখেন,‘আজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি একটা বক্তব্য দিয়েছেন, ‘হয় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব’। কথাটা খুবই স্বাভাবিক, কারণ আইন হাতে তুলে নিয়ে হত্যা করতে চেয়েছে শিবিরকে। একই বক্তব্য যদি অন্য কোনো সংগঠনকে উদ্দেশ্য করে হতো, বিরাট নিন্দার ঝড় বইতো। শিবির নিজেও হয়ত এটা মেনে নিয়েছে। তারা নিজেরাও বিশ্বাস করে তারা একেকজন হত্যাযোগ্য প্রাণ, মানবাধিকার তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তা না হলে সামাজিক মাধ্যমে শিবিরের নেতা-কর্মীদের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ দেখতাম বলে উল্লেখ করে সর্ব মিত্র চাকমা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষপানে একপাল কুকুরছানা মেরে ফেললে বিষাদ আর অগ্নির ঝড় বয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়, একটা জলজ্যান্ত মানুষ ‘শিবিরের ছানা’ মরলে সমাজের সিভিল সোসাইটি, মানবাধিকার নিয়ে হাঁসফাঁস করা মানুষগুলো টু শব্দটি পর্যন্ত করবে না। শিবিরের কর্মীদের নিঃশর্তভাবে হত্যাযোগ্য প্রাণ। শিবিরকে মেরে ফেলা জায়েজ, গত সতেরো বছরে সমাজ ও রাষ্ট্রে এটা প্রতিষ্ঠিত বাক্য। যদিও রাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা নেই তাদের উপর।’

এ বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কমেন্টে আল মামুন নামে নামক ব্যক্তি লেখেন, ‘ওমর ফারুক ভাইকে খুব সম্মান করতাম, বাট উনিও যে ছাত্রলীগ স্টাইলে বক্তব্য দিতে পারেন আজ জানলাম। তা বড়ো ভাই ১৪-২১ সাল পর্যন্ত তো আপনার উল্লেখ যোগ্য কোনো কর্মকাণ্ড তো দেখলাম না ক্যাম্পাসে। আপনি তো আসতেনই না ক্যাম্পাসে’।

ফারজানা নিলা লেখেন, ‘আফসোস চাচা আপনারা এত শক্তিশালী হয়েও বালুর ট্রাক সরাতে পারলেন না। জিয়া পরিবারকে নিয়ে হাসিনা যখন অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতো তখন কোথায় ছিলেন আপনি চাচা?’

Advertisement

সাদিকুল ইসলাম আরেক ফেসবুক ইউজার লেখেন, ‘আজকে ছাত্রদলের পোলাপান স্লোগান দিছে —একটা একটা শিবির ধর, ধরে ধরে জবাই কর। ছাত্রলীগের পোলাপানও একই স্লোগান দিতো। এমন সেইম সেইম কেমনে হইলো?

তিনি লিখেছেন, ‘ছাত্রদলের কেউ ক্যাম্পাসে আসছে, ছাত্রলীগ এই খবর পাইলে খুব আরাম করে পিটাইতে যাইতো। সেই ছাত্রদল আর এখন। কারো সঙ্গে জেদ থাকলে ছাত্রলীগের ছাপড়িরা তারে শিবির বলে পিটাইতো। ছাত্রদল-শিবির ছিল একপাল্লায় তোলা মাল, মানে ছাত্রলীগের পিটানিই ছিল এদের নসিব। ছাত্রলীগের মতো করে শুভকামনা জানাই।’

সমালোচনার জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওমর ফারুক লেখেন, ‘পুরো বক্তব্য শুনতে হবে। শব্দচয়নে স্লিপ অব টাং হতে পারে। সমালোচনাকে সাধুবাদ। তবে জিয়া পরিবারকে নিয়ে নোংরামি করলে কোনো ছাড় নয়।’

ইরফান উল্লাহ/কেএইচকে/এএসএম