ইসরায়েলের ‘সব ধরনের আগ্রাসন’ মোকাবিলায় কার্যকর দায়িত্ব পালনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। একইসঙ্গে তিনি ১৯৭৪ সালের ডিসএনগেজমেন্ট চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
Advertisement
এই চুক্তিতে গোলান মালভূমি সিরিয়ার অধিকারে থাকার কথা থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে ইসরায়েলের হাতে এই মালভূমির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট মনিটর।
আল-শারা বলেন, সিরিয়ার ভূমিতে ইসরায়েলের বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এ অবস্থায় বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব রয়েছে তা বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
Advertisement
তিনি ১৯৭৪ সালের চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ওই চুক্তি পুনর্বহাল হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সিরিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, সিরিয়ার যেমন ইউরোপ-কে প্রয়োজন তেমনি সিরিয়াও ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দাবি করেন, সিরিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় সমর্থন ইসরায়েলি আগ্রাসন কমাতে সহায়ক হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
ডিসএনগেজমেন্ট এগ্রিমেন্ট:
Advertisement
১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ (ইয়ম কিপুর যুদ্ধ)–এর পর ১৯৭৪ সালের ৩১ মে একটি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিটিই ইসরায়েল–সিরিয়া ডিসএনগেজমেন্ট এগ্রিমেন্ট।
এই চুক্তির মূল বিষয়গুলো ছিল-
১)ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং সৈন্য প্রত্যাহার নিশ্চিত করা।
২) গোলান হাইটস এলাকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে একটি বাফার জোন তৈরি করা।
৩) বাফার জোনে ইউএন ডিসএনগেজমেন্ট অবজার্ভার ফোর্স নামের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা।
৪) সীমান্ত বরাবর সংঘাত কমিয়ে একটি স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখা।
এই চুক্তির মাধ্যমে সরাসরি যুদ্ধ থামলেও ইসরায়েল এখনো গোলান মালভূমি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এদিকে সিরিয়া এই অঞ্চলকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে। তাই সিরিয়ার রাজনীতিতে ১৯৭৪ সালের এই চুক্তি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়।
গোলান হলো সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ১৮০০ বর্গকিলোমিটার (প্রায় ১০০০ বর্গমাইল) আয়তনের এক পাথুরে মালভূমি। এলাকাটি ইসরায়েলের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও সামরিক কৌশলগত দিক থেকে গোলান মালভূমি গুরুত্ব ব্যাপক। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে এই মালভূমি।
আল-শারা জানান, শুক্রবারের বৈঠক ছিল একটি ইতিবাচক সূচনা। আগামী মাসে আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যা সিরিয়া ও ইউরোপের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
কেএম