আন্তর্জাতিক

পক্ষাঘাত চিকিৎসায় ‘ব্রেইন–কম্পিউটার’ ইন্টারফেসের ক্লিনিক্যাল অনুমোদন

বিশ্বে প্রথমবারের মতো ইমপ্ল্যান্টেবল ব্রেইন–কম্পিউটার ইন্টারফেস (বিসিআই) ডিভাইসের অনুমোদন দিয়েছে গণচীন। এ অনুমোদন আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

এর মাধ্যমে গবেষণাগারে আটকে থাকা বিসিআই প্রযুক্তি এখন ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম পিপলস ডেইলি অনলাইন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি স্ট্রোক, স্পাইনাল ইনজুরি এবং পক্ষাঘাত চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এই বিসিআই-এর জন্য জাতীয় নীতিমালা তৈরি করেছে চীন। পিপলস ডেইলি অনলাইন প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গবেষণা থেকে ক্লিনিক্যাল প্রয়োগে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এই প্রযুক্তি। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের মধ্যে বড় আকারে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে বলে জানানো হয়েছে।

বিসিআই প্রযুক্তি কী?

ব্রেইন–কম্পিউটার ইন্টারফেস এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে মানুষের মস্তিষ্কের সংকেত সরাসরি বাহ্যিক যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়। এতে পেশি বা স্নায়ুর ব্যবহার ছাড়াই শুধু চিন্তার মাধ্যমে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

Advertisement

নতুন ডিভাইস ‘এনইও’

চীনের ন্যাশনাল মেডিকেল প্রোডাক্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুমোদন দেওয়া ডিভাইসটির নাম এনইও। যৌথভাবে এটি তৈরি করেছে নিউরেক্যাল টেকনোলজি (সাংহাই) এবং সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল। এটি একটি ছোট চিপ আকারের ডিভাইস, যা মস্তিষ্কে বসানো হয় এবং রোগীর চিন্তার সংকেত সংগ্রহ করে তা বাস্তব নির্দেশে রূপান্তর করে।

ডিভাইসটি যেভাবে কাজ করে

এই ডিভাইসটি প্রথমে মস্তিষ্কের মোটর সিগন্যাল সংগ্রহ করে। এরপর তা রিয়েল টাইমে বিশ্লেষণ করে এবং একটি নিউম্যাটিক গ্লাভস বা বাহ্যিক যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। ফলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীরা চিন্তার মাধ্যমে দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোগীরা তাদের হাতের নড়াচড়া করতে পারছেন। কিছু ক্ষেত্রে রোগীদের আংশিক স্নায়বিক পুনরুদ্ধার হতে দেখা গেছে। এর মাধ্যমে একজন রোগী চিন্তার মাধ্যমে কাপ তুলে পানি পান করতে সক্ষম হয়েছেন।

কেএম

Advertisement