পরিবারের বড় সন্তানেরা পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ারে ছোটদের তুলনায় বেশি সফল হয়—এমন একটি ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে। এতদিন একে কেবল সামাজিক সংস্কার বা ‘স্টেরিওটাইপ’ মনে করা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ। বিশেষ করে শৈশবে জীবাণুর সংক্রমণ এবং মা-বাবার মনোযোগের তারতম্য এই পার্থক্যের মূল কারণ।
Advertisement
যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ডেনমার্কের গবেষকদের একটি যৌথ গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, বড় ভাই-বোনেরা অনেক সময় ছোটদের জন্য রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। ডেনমার্কের প্রশাসনিক তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা জানান, বড় সন্তানদের তুলনায় ছোটরা জন্মের প্রথম বছরেই মারাত্মক শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির হওয়ার ঝুঁকি দুই থেকে তিনগুণ বেশি থাকে।
শৈশবের এই অসুস্থতা সরাসরি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দেয়। শরীর যখন রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সেখানে ব্যয় হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে প্রভাব ফেলে।
আয়ের বৈষম্য ও শারীরিক প্রভাবনরওয়ের একটি জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, বড়দের তুলনায় ছোটরা দ্রুত শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে পড়ে এবং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাদের আয়ও তুলনামূলক কম হয়। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তারা আয়ও কম করে এবং পরবর্তী প্রতিটি সন্তানের ক্ষেত্রে এই ব্যবধান ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। এমনকি ছোট বোনদের ক্ষেত্রে কিশোরী বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সম্ভাব্যতাও বেশি থাকে।
Advertisement
ডেনমার্কের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের মধ্যে আয়ের যে ১ দশমিক ৯ শতাংশ পার্থক্য থাকে, তার অর্ধেকটাই নির্ধারিত হয়ে যায় শৈশবের এই স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে।
মা-বাবার মনোযোগ: বড় ফ্যাক্টরছোট ভাই-বোনেরা প্রায়ই যে অভিযোগ করে—বড়রা বেশি মনোযোগ পায় এবং তাদের এই অভিযোগ সত্য। যুক্তরাষ্ট্রের ‘টাইম-ইউজ’ ডেটা দেখায়, পুরো শৈশবজুড়ে বড় সন্তানেরা সমবয়সী দ্বিতীয় সন্তানের তুলনায় প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট বেশি ‘কোয়ালিটি টাইম’ বা গুণগত সময় উপভোগ করে।
গবেষকদের মতে, মা-বাবারা নির্দিষ্ট সময়ে সন্তানদের মধ্যে মনোযোগ সমানভাবে ভাগ করার চেষ্টা করেন। তবে পরবর্তী সন্তানদের যত্নের প্রয়োজন বেশি থাকায় প্রথম সন্তানেরা শৈশবজুড়ে মোট সময় বেশি পেয়ে যায়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শুরুর সময়ে এই অতিরিক্ত মানসিক উদ্দীপনা বড় সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ছোট ভাইবোনদের অভিযোগ একেবারে অমূলক নয়।
সূত্র: দ্য ইকোনমিস্টকেএএ/
Advertisement