দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেছে। তবে আজও নিহত বাসচালক আরমানের স্মৃতি ভুলতে পারেনি তার পরিবার। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে দুই শিশু কন্যাসন্তানের ভবিষ্যৎ ও সংসার চালানো নিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছেন আরমানের তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাবনী।
Advertisement
নিহত আরমান খান (৩১) রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শহীদনগর খালকুলা গ্রামের আরব খানের ছেলে। তিনি ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের’ (রাজবাড়ী-ব-১১-০০২৪) চালক ছিলেন। চলতি বছরের ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবিতে তার মৃত্যু হয়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আরমানের নিজস্ব কোনো জমি নেই। সরকারি জমির ওপর ঘর। তার আয়েই চলতো পরিবারের যাবতীয় খরচ। তার মৃত্যুর পর দুই শিশুসন্তান—১০ বছর বয়সী আমেনা ও ৫ বছর বয়সী তাইবাকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন লাবনী। তবে দুর্ঘটনার পর মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন অনেকে। জেলা প্রশাসন থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা এবং কানাডাপ্রবাসী এক বাঙালির পাঠানো ৮৮ হাজার টাকায় আরমানের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও সংসার খরচ মেটানো হয়েছে।
স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সবুজ মিয়ার মাধ্যমে ওই প্রবাসী এই সহায়তা পাঠান। সবুজ মিয়া জানান, প্রবাসীর পাঠানো টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য এক মাসের বাজার সদাই, গ্রামীণ ব্যাংকের ৪৮ হাজার ৫০০ টাকার ঋণ পরিশোধ এবং আরমানের স্ত্রী ও মায়ের হাতে নগদ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
নিহত আরমানের স্ত্রী লাবনী বলেন, ‘বিদেশে থাকা ওই মহৎ মানুষ ও সবুজ ভাইয়ের কারণে ব্যাংকের ঋণ শোধ করতে পেরেছি। কিন্তু এখন আমার হাতে সামান্য কিছু টাকা ছাড়া আর কিছুই নেই। আগামী দিনগুলোতে এই ছোট দুটি মেয়ে আর গর্ভের সন্তানকে নিয়ে কীভাবে চলবো জানি না।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, আমার স্বামী যে বাসটি চালাতেন, সেই বাসের মালিক আজ পর্যন্ত আমাদের কোনো খোঁজ নেননি। এমনকী আমাদের দেখতেও আসেননি।’
এ বিষয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের মালিক আক্তারুজ্জামান হাসান জানান, বিশেষ কারণে তিনি নিজে সশরীরে যেতে পারেননি। তবে পরিবহনের ফোরম্যান রাশেদসহ অন্য চালকরা গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়েছেন। পরিবারের বিষয়টি তারা দেখবেন বলে জানান।
গত ২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় চালকসহ ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
Advertisement
রুবেলুর রহমান/এসআর/এমএস