সোমালিয়া উপকূলে আবারও জলদস্যুতা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক জাহাজ অপহরণের ঘটনায় ঝুঁকির মাত্রা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
Advertisement
ব্রিটিশ সামুদ্রিক সংস্থা জানিয়েছে, রোববার (২৭ এপ্রিল) একটি কার্গো জাহাজ সশস্ত্র ব্যক্তিদের দ্বারা দখল করে সোমালিয়ার আঞ্চলিক পানিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি এক সপ্তাহে অন্তত চতুর্থ ঘটনা।
এর আগে একটি মাছ ধরার নৌকা, একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা বা দখলের চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে একটি তেলবাহী জাহাজ ১৭ জন ক্রুসহ জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন বছর আগে এই অঞ্চলে জলদস্যুতা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও তা ফিরে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে। দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অনুকূল আবহাওয়া ছোট নৌযান দিয়ে হামলার সুযোগ বাড়াচ্ছে।
Advertisement
ইউকেএমটিও জানিয়েছে, জাহাজগুলোকে সতর্কভাবে চলাচল করতে এবং উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জাহাজের ক্রুরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে হামলাকারীরা পিছু হটেছে বলেও জানানো হয়।
২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুরা মুক্তিপণ আদায়ের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বলে বিশ্বব্যাংকের হিসাব। বর্তমানে নতুন করে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য রুট আবারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে ভারত মহাসাগর ও লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর খরচ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়বে।
সূত্র: বিবিসি
Advertisement
এমএসএম