শিক্ষা

গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার, কূটনীতিকদের শিক্ষামন্ত্রী

বাংলাদেশে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতে বিএনপি সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

Advertisement

সোমবার (২৭ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রমিস সেন, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওথমেন ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। এ সময় তুরস্ক, মালয়েশিয়া ও পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।

বৈঠককালে দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন তুরস্কের রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের শিক্ষা ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অত্যন্ত দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃতের আছে সুযোগ। দুই দেশের বিদ্যমান ব্যবসার প্রসার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ করতে ইচ্ছুক তুরস্ক।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দেশগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম এগিয়ে গেলে শিক্ষার মান আরও বাড়বে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

Advertisement

তুরস্ক রাষ্ট্রদূতের পর শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওথমেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে মালয়েশিয়া সারা বিশ্বে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের এ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশেও কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার।

এদিকে, একই দিনে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৈঠকে হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তান সরকার বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বায়োটেকনোলজি, বিবিএ, এআই, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফ্যাশন ডিজাইনিংসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বিষয়ে উচ্চশিক্ষার বৃত্তি দিচ্ছে।

এছাড়া ‘পাকিস্তান টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম’ এবং ‘ট্রেনিং ফর সিভিল সার্ভিস’-এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সচল রয়েছে। আগামীতে শিক্ষা, খেলাধুলা ও প্রযুক্তি খাতে এ সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বড় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Advertisement

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী দুই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ‘এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ বা বিনিময় কর্মসূচি চালু ও প্রসারের মাধ্যমে শিক্ষাখাতে নতুন মাত্রা যোগ করার বড় সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, এদিন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ইউকে ম্যানেজমেন্ট কলেজের সিইও এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির চেয়ারম্যান মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটনের প্রতিনিধিরা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএএইচ/এমএএইচ/