পাচার হওয়া বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার করে দেশের ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) গত ৩০ মার্চ প্রতারণামূলক অনলাইন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এমটিএফইয়ের মাধ্যমে পাচার হওয়া ৪৪ কোটিরও বেশি টাকার সমমূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা দেশে ফেরত আনে।
Advertisement
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই সাফল্য দেশীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ অর্জনের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বের ইতিবাচক ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি প্রকাশ করে সিআইডির সঙ্গে দীর্ঘদিনের যৌথ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার ফল হিসেবে এই সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
Advertisement
এদিকে অর্থ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার স্বীকৃতিস্বরূপ সিআইডির পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে একটি অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সিআইডির ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, আমাদের কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতার ফলে এই প্রথম পাচার হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এটি সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে এ সাফল্যের খবর প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দায়িত্ব পালনে আরও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সিআইডি জানায়, এমটিএফই একটি ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কৃত্রিম লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হতো। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্ল্যাটফর্মটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টো ওয়ালেটে পাচার করা হয়।
Advertisement
তদন্তে প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের ইউএসডিটি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জে শনাক্ত করা হয়। উন্নত ব্লকচেইন বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থটি জব্দ করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অর্থ বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে সোনালী ব্যাংকের সরকারি হিসাবে জমা করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার পরিচালনা করছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ শনাক্ত ও উদ্ধারে কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
টিটি/এমআইএইচএস