আইন-আদালত

ঢাকার আইনজীবী সমিতির ভোটগ্রহণ শুরু

• ২৩টি পদে নির্বাচন করছেন ৫৪ জন• মোট ভোটার সংখ্যা ২১,৭৩১ জন• নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী• মুখোমুখি বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি

Advertisement

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুইদিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে ২১ হাজার ৭৩১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে ভোট নেওয়া শুরু হয়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এরপর আবার কাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদের বিপরীতে ৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনকে ঘিরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেল এবং জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেলের মধ্যে। নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Advertisement

অন্যদিকে, সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন। এছাড়া বিভিন্ন পদে আটজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।

নিয়ম অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দুটি তারিখে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা পিছিয়ে যায়। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

আরও পড়ুনআইনজীবীদের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে ‘৪ ম্যাজিক ফ্যাক্টর’দুই মিনিটের বক্তব্যে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইলেন প্রার্থীরাসুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল ঘোষণা

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থি কোনো প্যানেল অংশ নিচ্ছে না, যা ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেন হয় সেই চেষ্টা করছেন তারা।

Advertisement

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা প্রকাশ করে বুধবার সকালে জাগো নিউজকে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। দুই দিনব্যাপী এই ভোটগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার পর গণনা শুরু হবে এবং এর মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে ঢাকা আইনজীবী সমিতির নতুন নেতৃত্ব।

দুদিনে ভোট, ২৩ পদে লড়াই

ঢাকা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে দুদিন ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে ৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবার দুটি প্রধান প্যানেল মুখোমুখি, বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’ এবং জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’। উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আটজন। নির্বাচনে ২৩টি পদের মধ্যে ১৩টি সম্পাদকীয় পদ, ১০টি সদস্য পদ।

আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সদস্য পদে নির্ধারিত ১০ সংখ্যার কম বা বেশি ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে।

আওয়ামী লীগ নেই, মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো প্যানেল অংশ নিচ্ছে না। আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের দাবি, তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি। দুই দশকের বেশি সময় একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াত এবার আলাদা হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে।

নীল প্যানেলের প্রার্থী যারা

ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল)’ পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে। এই প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান লড়ছেন।

প্যানেলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ এস এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক)।

সদস্য পদে নীল প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।

সবুজ প্যানেলের প্রার্থী যারা

জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত ‘আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেল)’ পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এই প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. শাহিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. লুৎফর রহমান (আজাদ), কোষাধ্যক্ষ মো. আজমত হোসেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আক্তার, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার, অফিস সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক, ক্রীড়া সম্পাদক বাবুল আক্তার (বাবু), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ নির্বাচনে লড়ছেন।

সদস্য পদে সবুজ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস এবং মোশাররফ হোসেন।

আরও পড়ুনঢাকা বারের নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা জামায়াতপন্থি সবুজ প্যানেলেরডিজিটাল ভোট গণনা চাই, পাতানো নির্বাচনে অংশ নেব না: শিশির মনিরকোর্ট ফি’র ২০ শতাংশ কল্যাণ তহবিলে জমার দাবি আইনজীবীদের

স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা

দুই প্রধান প্যানেলের বাইরে এবারের নির্বাচনে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ পদে রফিকুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ান আবুল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ওলিদা বেগম, দপ্তর সম্পাদক পদে জাকির হোসাইন ও সদস্য পদে মৌসুমি বেগম রয়েছেন। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের কাছে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এমডিএএ/এসএনআর/এমএমএআর