আন্তর্জাতিক

জ্বালানি সংকটেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিশ্চিন্ত যেসব দেশ

বিশ্বজুড়ে যখন জীবাশ্ম জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম আর সরবরাহ সংকট নিয়ে হাহাকার, তখন এক ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে আইসল্যান্ড, প্যারাগুয়ের মতো দেশগুলোতে, এমনকি আমাদের প্রতিবেশী নেপাল-ভুটানেও। যেখানে তেলের দাম বাড়লে বা গ্যাসের সংকট হলে অন্য দেশগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা থমকে যায়, সেখানে এই দেশগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উৎস ব্যবহার করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করছে। জ্বালানি নিরাপত্তার এই দৌড়ে নবায়নযোগ্য শক্তিই এখন তাদের তুরুপের তাস।

Advertisement

প্রকৃতির শক্তিতেই বাজিমাত

আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) এবং বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, বর্তমানে প্রায় ১০টি দেশ তাদের বিদ্যুতের শতভাগ বা তার কাছাকাছি পরিমাণ উৎপাদন করছে ‘গ্রিন এনার্জি’ বা নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। এসব দেশের তালিকায় রয়েছে আলবেনিয়া, ভুটান, নেপাল, প্যারাগুয়ে, আইসল্যান্ড, ইথিওপিয়া, এমনকি গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর নাম।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবায়নযোগ্য শক্তির বড় সুবিধা হলো এর ‘ফুয়েল কস্ট’ বা জ্বালানি খরচ শূন্য। সূর্য, বাতাস বা নদীর স্রোত ব্যবহারের জন্য অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর করতে হয় না। ফলে ইউক্রেন বা ইরান যুদ্ধের মতো ভূ-রাজনৈতিক সংকটে যখন বিশ্বজুড়ে কয়লা ও গ্যাসের দাম বাড়ে, তখন এই দেশগুলো থাকে সম্পূর্ণ চিন্তামুক্ত।

শীর্ষে থাকা দেশগুলোর সফলতার নেপথ্যে:

আইসল্যান্ড (ভূ-তাপীয় ও জলবিদ্যুৎ):

Advertisement

আইসল্যান্ড পৃথিবীর অন্যতম আগ্নেয়গিরিপ্রবণ দেশ। এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা মাটির গভীরের উত্তাপ বা ভূ-তাপীয় শক্তি দিয়ে তাদের মোট বিদ্যুতের প্রায় ২৫ শতাংশ উৎপাদন করে। বাকি ৭৫ শতাংশ আসে জলবিদ্যুৎ থেকে। এমনকি তারা রাস্তার নিচের বরফ গলাতে এবং গ্রিনহাউজে সবজি চাষেও এই ভূ-তাপীয় শক্তি সরাসরি ব্যবহার করে।

আইসল্যান্ডের নেসজাভেলির ভূ-তাপীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র/ ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

প্যারাগুয়ে (জলবিদ্যুতের বিশাল ভাণ্ডার):

প্যারাগুয়ে তাদের চাহিদাপ্রাপ্ত বিদ্যুতের ১০০ শতাংশই পায় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। এর নেপথ্যে রয়েছে ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ে সীমান্তে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইতাইপু বাঁধ। এই একটি প্রকল্প থেকেই তারা এত বেশি বিদ্যুৎ পায় যে, নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিশাল একটি অংশ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

Advertisement

ভুটান (পাহাড়ি নদী):

ভুটানকে বলা হয় বিশ্বের একমাত্র ‘কার্বন নেগেটিভ’ দেশ। হিমালয় থেকে নেমে আসা তীব্র গতির নদীগুলো তাদের প্রধান শক্তি। দেশটি ছোট-বড় অসংখ্য নদী ব্যবহার করে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। পরিবেশ রক্ষাকে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা করায় তারা কয়লা বা তেলের পথে না গিয়ে শতভাগ গ্রিন এনার্জিতেই অটল থেকেছে।

নেপাল (হিমালয়ের আশীর্বাদ):

নেপালের বিদ্যুৎ খাতের আমূল পরিবর্তন এসেছে হিমালয়ের তীব্র গতির নদীগুলোকে কাজে লাগিয়ে। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৮ শতাংশের বেশি আসে জলবিদ্যুৎ থেকে। বর্তমানে নেপাল শুধু নিজের দেশেই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করছে না, বরং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি না করেই তারা ছোট ও মাঝারি আকারের অসংখ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে, যা তাদের জ্বালানি সংকটে এক নিশ্চিন্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।

নেপালের তামাকোশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প/ ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট

নরওয়ে (দূরদর্শী সঞ্চালন ব্যবস্থা):

নরওয়ের ভূ-প্রকৃতিতে রয়েছে অসংখ্য পাহাড় ও লেক। তারা তাদের বিদ্যুৎ চাহিদার ৯৮ শতাংশই পূরণ করে জলবিদ্যুৎ দিয়ে। ১৯ শতকের শেষ দিক থেকেই তারা এই খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছিল। বর্তমানে তারা উন্নত ‘পাম্পড স্টোরেজ’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা বাড়তি বিদ্যুৎ জমা রাখতে এবং চাহিদার সময় সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

কোস্টারিকা (প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের ব্যবহার):

মধ্য আমেরিকার এই দেশটি গত কয়েক বছরে গড়ে প্রায় ৩০০ দিনের বেশি সময় শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চলেছে। তাদের সফলতার মূলে রয়েছে বহুমুখী উৎস— জলবিদ্যুৎ, ভূ-তাপীয়, বায়ু এবং সৌরশক্তির এক চমৎকার সমন্বয়। তারা সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করে সেই অর্থ পরিবেশ রক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করেছে, যা সারা বিশ্বে সমাদৃত।

আলবেনিয়া (নদীর স্রোতে শতভাগ আস্থা):

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে আলবেনিয়া এক অনন্য উদাহরণ, যারা তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১০০ শতাংশই অর্জন করে জলবিদ্যুৎ থেকে। মূলত দ্রিন নদীর ওপর নির্মিত তিনটি প্রধান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশটির জ্বালানি চাহিদার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। আলবেনিয়ার বিশেষত্ব হলো, তারা কয়েক দশক আগেই জীবাশ্ম জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সরে এসে পুরোপুরি প্রাকৃতিক স্রোতের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। বর্তমানে তারা সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ খাতেও বিনিয়োগ শুরু করেছে যাতে খরার সময় জলবিদ্যুতের ঘাটতি মেটানো যায়।

দুবাইয়ের মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম সৌর পার্ক/ ছবি: শিনহুয়া

ইথিওপিয়া (আফ্রিকার গ্রিন এনার্জি পাওয়ারহাউজ):

ইথিওপিয়া বর্তমানে তার প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের প্রায় ৯৯-১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করছে। এর সিংহভাগই (৯০ শতাংশ) আসে জলবিদ্যুৎ থেকে। দেশটির এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম’, যা আফ্রিকার বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়া এই বাঁধটি একাই ৫ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রাখে। এছাড়া দেশটি বায়ু ও সৌরবিদ্যুতেও দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো ২০২৫ সালের মধ্যে আফ্রিকার অন্যতম শীর্ষ বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়া।

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো (প্রকৃতির অফুরন্ত দান):

গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ আসে জলবিদ্যুৎ থেকে। দেশটির এই সফলতার মূলে রয়েছে কঙ্গো নদীর বিশাল জলধারা। বর্তমানে চালু থাকা ইঙ্গা-১ এবং ইঙ্গা-২ বাঁধ দুটি দেশটির মূল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে। এছাড়া দেশটি ‘গ্র্যান্ড ইঙ্গা ড্যাম’ নামে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এটি পূর্ণতা পেলে ৪০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে, যা পুরো আফ্রিকার প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

সাফল্যের পথে আরও কিছু দেশ

ডেনমার্ক (বায়ুবিদ্যুৎ ও সামাজিক মালিকানা):

ডেনমার্ক বর্তমানে তার মোট বিদ্যুতের ৮৮ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পায় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। দেশটির সফলতার মূল শক্তি হলো বায়ুবিদ্যুৎ, যা তাদের মোট চাহিদার ৫৮ শতাংশ মেটায়। ডেনমার্কের বিশেষত্ব হলো তাদের ‘কমিউনিটি ওনারশিপ’ বা সামাজিক মালিকানা নীতি। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, সব নতুন বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ২০ শতাংশ মালিকানা স্থানীয় জনগণের থাকতে হয়, যা এই পরিবর্তনের প্রতি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন নিশ্চিত করেছে।

পর্তুগাল (সৌরবিদ্যুতের অভাবনীয় উত্থান):

পর্তুগাল এখন ৭৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে চলে, যার একটি বড় অংশ আসে বায়ু ও সৌরশক্তি থেকে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশটির সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ৪৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সাল থেকেই পর্তুগাল সম্পূর্ণ ‘কয়লামুক্ত’ দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে তারা গ্যাসভিত্তিক উৎপাদনও বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়েছে।

নেদারল্যান্ডস (অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ):

উত্তর সাগরের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে নেদারল্যান্ডস তাদের বিদ্যুৎ খাতের কার্বন নিঃসরণ অর্ধেক কমিয়ে ফেলেছে। বর্তমানে তাদের বিদ্যুতের ৪৫ শতাংশ আসে বায়ু ও সূর্য থেকে। দেশটি তাদের সমুদ্রবক্ষস্থ বায়ুবিদ্যুৎ সক্ষমতা ২০৩২ সালের মধ্যে চারগুণের বেশি বাড়িয়ে ২১ গিগাওয়াটে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যা তাদের বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদার ৭৫ শতাংশ মেটাতে সক্ষম।

লিথুয়ানিয়া (ছাদ-ভিত্তিক সোলার):

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লিথুয়ানিয়া রুশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা পুরোপুরি ত্যাগ করেছে। বর্তমানে দেশটির ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যেখানে বাড়ির ছাদে বসানো সোলার প্যানেল বা ‘রুফটপ সোলার’ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। ২০৩০ সালের মধ্যে তারা বিদ্যুৎ আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ/ ছবি: পেক্সেলস

গ্রিস (ভুমধ্যসাগরীয় রোদ ও বাতাসের শক্তি):

গ্রিস গত এক দশকে তাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে। বর্তমানে তাদের মোট বিদ্যুতের ৫০ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে, যার বড় অংশই হলো ভূমধ্যসাগরীয় প্রচুর সূর্যালোক এবং বায়ুপ্রবাহ। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে।

মৌরিতানিয়া ও জিবুতি (আফ্রিকার নতুন সম্ভাবনা):

আফ্রিকার এই দেশ দুটি গত কয়েক বছরে অভাবনীয় উন্নতি করেছে। জিবুতি মাত্র পাঁচ বছরে তাদের নবায়নযোগ্য উৎপাদন শূন্য থেকে ৬৭ শতাংশে উন্নীত করেছে। অন্যদিকে মৌরিতানিয়া ২০০৮ সালে এক শতাংশের এর নিচে থাকলেও বর্তমানে ৫০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ গ্রিন এনার্জি থেকে পাচ্ছে। উভয় দেশই ২০৩০-৩৫ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে।

চীন (সক্ষমতায় শীর্ষে)

সক্ষমতার বিচারে এখন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন তাদের। চলতি বছরের মার্চের শেষ নাগাদ চীনের মোট নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতা প্রায় ২৪০ কোটি কিলোওয়াটে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ৬০ শতাংশের বেশি।

নবায়নযোগ্য শক্তিতেই নিরাপত্তা

প্রকৃতির অফুরন্ত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নেপাল-ভুটানের মতো দেশগুলো প্রমাণ করেছে, জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠাই দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার একমাত্র পথ। বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আর বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিতিশীল দাম যে সংকটের সৃষ্টি করেছে, তা থেকে মুক্তির জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ধাবিত হওয়া এখন আর কেবল পরিবেশগত বিলাসিতা নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা। আগামীর পৃথিবীতে তারাই অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকবে, যারা প্রকৃতির শক্তিকে জয় করতে শিখবে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, ক্লাইমেট কাউন্সিল, রেটেড পাওয়ার, উইকিপিডিয়াকেএএ/