রাজধানীর রামপুরার জামতলা এলাকার কমিশনার রোড। ব্যস্ত এই সড়ক শুক্রবার (১ মে) ভোরের ভারি বৃষ্টির পর জলাবদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে। সকাল গড়িয়ে রাত নেমেছে, কিন্তু জমে থাকা পানি নামেনি। বরং নালার ময়লা মিশে তৈরি হয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত এক স্থবির জলরাশি, যা পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকাবাসী।
Advertisement
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায় হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও তা কিছুটা কম হলেও পুরো রাস্তায় জলাবদ্ধতা। পানি নিষ্কাশনের কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই।
এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, ‘ভোরে যখন বৃষ্টি হলো, তখনই বুঝেছিলাম আজ সারাদিন কষ্ট হবে। কিন্তু এখন তো রাত হয়ে গেল, পানি তো রাস্তায় রয়ে গেছে। এই পানি তো শুধু বৃষ্টির না, ড্রেনের নোংরা মিশে গেছে। এর মধ্যে দিয়ে চলাফেরা করা খুবই কষ্টকর।’
রিকশাচালক হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এই পানির মধ্যে রিকশা চালানো খুব কষ্ট। চাকা ডুবে যায়, যাত্রীও উঠতে চায় না। সারাদিন বেশিরভাগ সময় বসে থাকতে হয়েছে। আমাদের আয় একদম বন্ধ।’
Advertisement
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সমস্যা নতুন নয়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি ডুবে যায়। নালা ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। নালাগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে, ফলে বৃষ্টির পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে আছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত ভবন তৈরি ও সড়ক নির্মাণের ত্রুটি।
এলাকাবাসী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু চলাচলই ব্যাহত হচ্ছে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। নোংরা পানির কারণে ত্বকের বিভিন্ন রোগ, ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর আশঙ্কা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। সন্ধ্যার পর এলাকায় দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। পানি স্থির হয়ে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। অনেকেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে ছুটির দিনের স্বাভাবিক স্বস্তি হারিয়ে গেছে, তার জায়গায় এসেছে বিরক্তি ও অসহায়ত্ব।
গৃহিণী শিউলি আক্তার বলেন, ‘সকালে বাজারে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পানি দেখে আর বের হতে পারিনি। ছোট বাচ্চা নিয়ে এই নোংরা পানির মধ্যে হাঁটা সম্ভব না। বাধ্য হয়ে ঘরেই থাকতে হয়েছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. শামছু বলেন, ‘আমার দোকানটা রাস্তার পাশে। আজ দোকান খুলে খুব কষ্ট করে বিক্রি করতে হচ্ছে। রাস্তায় পানি জমে থাকায় ক্রেতা ও বিক্রি কম। ছুটির দিনে সাধারণত বিক্রি ভালো হয়, কিন্তু আজ পুরো দিনটাই নষ্ট হয়ে গেলো।’
Advertisement
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মজীবীরা। বেসরকারি চাকরিজীবী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আজ ছুটির দিন ছিল, তাই কোনো রকমে সামলানো গেছে। কিন্তু যদি কর্মদিবস হতো, তাহলে অফিস যাওয়াই সম্ভব হতো না। এই অবস্থায় প্রতিদিন চলাচল করা খুবই কঠিন।’
শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। এটা যেন নিয়ম হয়ে গেছে। আমরা অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। মনে হয় দেখার কেউ নেই।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। নিয়মিত নালা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে এই দুর্ভোগ কমানো সম্ভব।
এমএএস/একিউএফ