বাংলাদেশের আবহাওয়া এখন যেন একেবারেই অনিশ্চিত। কখনো প্রচণ্ড গরম, আবার কিছুক্ষণ পরেই ভারী বৃষ্টি। এই হঠাৎ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকের ওপর। ফলে র্যাশ, চুলকানি, ঘামাচি, অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব, এমনকি ছত্রাকজনিত সংক্রমণও বেড়ে যায়। বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের সমস্যাগুলো আরও বেশি দেখা দেয়।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের সময়ে ত্বকের যত্নে একটু সচেতন হলেই অনেক বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
ত্বকের সুরক্ষা স্তর শক্ত রাখা জরুরিত্বকের বাইরের সুরক্ষা স্তর বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ আমাদের ত্বককে সুস্থ রাখার অন্যতম প্রধান উপাদান। কিন্তু আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এই স্তর থেকে আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা ও সংবেদনশীলতা বাড়তে শুরু করে।
এই সময় ত্বকের জন্য মৃদু ও পিএইচ-ভারসাম্যযুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত কড়া ফেসওয়াশ বা সাবান ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি সিরামাইড ও ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের সুরক্ষা স্তর মজবুত থাকে এবং শুষ্কতা কমে।
Advertisement
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত পানি হারায়। এর প্রভাব সরাসরি ত্বকে পড়ে। ত্বক নিস্তেজ, টানটান বা খসখসে হয়ে যেতে পারে। তাই শুধু বাইরে থেকে নয়, ভেতর থেকেও ত্বককে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি।হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত হাইড্রেটিং সিরাম ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা, ফল ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও ত্বকের জন্য উপকারী।
সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা যাবে নাঅনেকেই মনে করেন, শুধু রোদ থাকলেই সানস্ক্রিন দরকার। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘলা দিন বা বৃষ্টির সময়ও ইউভি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
প্রতিদিন ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বক পিগমেন্টেশন, ট্যান ও অকাল বার্ধক্য থেকে সুরক্ষিত থাকে। বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগানো উচিত।
তৈলাক্তভাব ও ব্রণ যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেনআর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের সমস্যা বাড়ে। এই সময়ে ভারী ক্রিমের বদলে হালকা জেল-ভিত্তিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। এটি ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখে, আবার অতিরিক্ত তেলও তৈরি হতে দেয় না। ঘরোয়া যত্ন হিসেবে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদের প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। নিমের অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
Advertisement
ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার না হলে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই সপ্তাহে এক বা দুইবার মৃদু এক্সফোলিয়েশন করা যেতে পারে। তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য স্যালিসাইলিক অ্যাসিড উপকারী। অন্যদিকে সংবেদনশীল বা মিশ্র ত্বকের জন্য ল্যাকটিক অ্যাসিড বেশি উপযোগী।তবে অতিরিক্ত স্ক্রাব ব্যবহার না করাই ভালো। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আরও পড়ুন:চোখের নিচের কালো দাগ কমানোর ঘরোয়া সমাধান গরমে ত্বকের যত্নে দুধের সর যেভাবে ব্যবহার করবেন ভিটামিন সি কেন জরুরি?ধুলাবালি, দূষণ ও রোদ ত্বকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি বাড়ায়। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা প্রয়োজন। ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং পরিবেশগত ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়। স্কিনকেয়ার রুটিনে ভিটামিন সি সিরাম ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি কমলা, লেবু, আমলকি বা পেয়ারার মতো ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পোশাকের দিকেও নজর দিনএ সময় অতিরিক্ত ঘাম হলে দ্রুত শুকনো কাপড় বদলে ফেলা উচিত। টাইট বা ভারী পোশাকের বদলে হালকা ও আরামদায়ক কাপড় ব্যবহার করলে ঘামাচি ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। দিন শেষে বাইরে থেকে ফিরে মুখ ও শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করাও জরুরি। আবহাওয়ার এই অনিয়মিত পরিবর্তনের সময়ে ত্বকের যত্নে অবহেলা করলে ছোট সমস্যা বড় আকার নিতে পারে। তাই সময়মতো সঠিক যত্নই ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ফেমিনা
এসএকেওয়াই