সাহিত্য

রাজীব কুমার সাহার চারটি কবিতা

নৈঃশব্দ্যের ঢেউ

বনের ফাঁকে ফাঁকে হামাগুড়ি দিয়ে নেমে আসাবিকেলের ক্ষয়িষ্ণু সূর্যটাক্রমশ মিলিয়েছে সন্ধ্যার সুগন্ধীতে!

Advertisement

বাড়ি ফেরার তাড়া ফুরোতেইসেইসব দিনগুলো বুকের ভেতর তিরতির কাঁপে।

তোমার চিঠির নকশিকাঁথায়,এফোঁড়-ওফোঁড় সৃষ্টি-অবসাদ-মৃত্যু আর নিঃসঙ্গতা বেঁধেছে ঘর!

আমি সত্য আড়াল করে মগ্ন হয়ে উঠি জীবনের গল্পে,যেখানে শৈশবের নিঝুম বাতাসআমাকে নিমফুলের মতো দোলায়!

Advertisement

অস্বচ্ছ জলের কাছেজলের যেমন তৃষ্ণা থাকে, আমিও তেমনিদিনলিপিতে হারিয়ে যাওয়া মুঠোভর্তি গল্পগুলোকেবলই জড়ো করছি নৈঃশব্দ্যের ঢেউয়ে ঢেউয়ে।আরবিদ্যুচ্চমকের ছটায় ছুটছি অসুখী প্রজাপতির পিছু পিছু!

****

বাবার স্মৃতি

গোধূলি মাড়িয়ে মাড়িয়েবাবার সঙ্গে রবিবারের হাট থেকে ফিরছিবাবার আঙুল থেকে চুইয়ে পড়ছে শৈশব!

অপেক্ষার ফুল গুছিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আমিফিরছি বাজারের থলে হাতেহাত বদল করে করেএগিয়ে চলেছি বকুলের ঘ্রাণে ঘ্রাণে বাড়ির পথে!

Advertisement

পথকে বিমোহিত করে রেখেছেবাবার মজার মজার গল্পহাসতে হাসতে আমি কুটিকুটিপ্রায়ব্যাগে ঠাম্মার চোখের ড্রপ, রেডলিফ কলমআর বাবার টর্চলাইটের ব্যাটারি ছাড়াওঘননিবদ্ধ নিত্যদিনের সওদাপাতি!

দ্রুতপায়ে হাঁটছি, টেবিলে জমেছে রাজ্যের কাজহারিকেনের নিভুনিভু আলোয় কাটতে হবেউৎসবের কারুকার্যময় ঝালর,সময়মতো দিতে হবে স্কুলের মনিটরিং বোর্ডআর জীববিজ্ঞানের প্র্যাকটিকেল খাতা!

দূর্বাদলে জলজ বাতাসঘোড়াউত্রায় রুপালি সুতোর চিকন স্রোত,পরস্পর হেঁটে চলেছি আমরাবাবা বাড়ি পৌঁছে গেলেই উৎসব হবে,বহুল-প্রতীক্ষিত আলো-ঝলমলে স্মৃতির উৎসব!

****

বিষণ্ন বর্ষা

এখনো প্রতি বছর নিয়ম করে বর্ষা আসেছোঁয়াচে আষাঢ়-শ্রাবণগুলোখুচরো পয়সার মতো ঝনঝনিয়ে ঢালে টলটলে বৃষ্টিফুল!

বুকের ভেতর তিরতির কাঁপে শ্রাবণসন্ধ্যা!

ঘাটে ঘাটে ঘুরে বেড়াই, ছেড়ে গেছে সব নৌকোবর্ষার মায়াঞ্জনে গভীরে তলিয়েছে টলতে থাকা সময়বর্ষায় পা ডুবিয়ে দেখা হয় না আর সুরভি দুপুরবিরহবাতাস এসে চিরতরে ভিজিয়ে দিয়েছে অন্ধকারে!

এখনো প্রতি বছর নিয়ম করে বর্ষা আসেবাবার অন্তর্যাত্রার পরদুচোখে নেমে আসা বর্ষা আমাকে আর ছেড়ে যায়নি!

****

এলোমেলো

কর্পূরের মতো উড়ে যাচ্ছে অবিন্যস্ত সময়সন্ধ্যাপ্রদীপের নিমগ্ন মায়াশরীর বেয়ে নেমে যাচ্ছে দিনানুদিন!

বিমনা বাতাসে ভাঁটফুলের নিষ্পলক দুলুনিসহসা ঘিরে রেখেছে ঘর-মন-জানালা!অদূরে নিমের নকশা-করা রোদ-ছায়ারাকাটাকুটি খেলায় দরদি কণ্ঠে ডাকছে!

আয়নায় লেগে থাকানির্জন টিপের মতো প্রতীক্ষা করিতোমার জমানো কথাগুলোবসন্তের প্রথম দুপুরের মতোপ্রীতি উপহার দিও!

ঝাপসা সময়ে এমনঅনেক কিছুই স্মৃতিপটে মনে পড়েযেভাবে শরীরে অসুখ এলেচোখে প্রিয়জনের মুখ ভাসে!

এসইউ