ভালোবাসা এমন একটি অনুভূতি, যা অনেক সময় যুক্তি বা বিচার-বিবেচনার সীমা মানে না। কখন, কীভাবে বা কার প্রতি মন দুর্বল হয়ে পড়বে, তা আগে থেকে বলা কঠিন। তবে ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় মানুষকে ভুল সম্পর্কের দিকেও টেনে নিয়ে যেতে পারে। বর্তমান সময়ে সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে নানা আলোচনা হয়, আর সেই আলোচনায় বারবার উঠে আসে একটি শব্দ-‘ট্রমা বন্ডিং’।
Advertisement
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, ট্রমা বন্ডিং হলো এমন এক ধরনের আবেগিক বন্ধন, যেখানে একজন মানুষ বারবার আঘাত পাওয়ার পরও সেই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারেন না। বরং আঘাত এবং ভালোবাসার মিশ্রণে তৈরি হয় এক অদ্ভুত নির্ভরতা, যা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।
যেভাবে তৈরি হয় ট্রমা বন্ডিংপ্রতিটি সম্পর্কেই দুইজন মানুষের আবেগ ও অনুভূতির প্রকাশ একরকম হয় না। কেউ বেশি যত্নশীল হন, কেউ তুলনামূলক কম। কিন্তু ট্রমা বন্ডিংয়ের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একটু ভিন্ন।
এখানে একজন সঙ্গী নিজের সুবিধা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভালোবাসা প্রকাশ করেন। যখন তার মন খারাপ হয়, একাকিত্ব অনুভব করেন বা আবেগিক সমর্থন প্রয়োজন হয়, তখন তিনি আপনার কাছে ফিরে আসেন। কিন্তু প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে দূরে সরে যান, এমনকি কষ্ট দিতেও দ্বিধা করেন না।
Advertisement
তবে সম্পর্ক পুরোপুরি শেষও করেন না। যখনই আপনি নিজেকে সামলে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন আবার ফিরে এসে ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি আচরণের মাধ্যমে আপনাকে সম্পর্কের মধ্যে টেনে আনেন। এই ওঠানামার চক্রই ধীরে ধীরে ট্রমা বন্ডিংয়ের ভিত্তি তৈরি করে।
কেন এই সম্পর্ক থেকে বের হওয়া কঠিন?ট্রমা বন্ডিংয়ের সবচেয়ে জটিল দিক হলো, এতে মানুষ ধীরে ধীরে আঘাত পাওয়ার পরবর্তী ভালোবাসার মুহূর্তগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
কষ্ট, উপেক্ষা বা অপমানের পর যখন হঠাৎ ভালোবাসা, যত্ন বা মনোযোগ পাওয়া যায়, তখন তা অনেক বেশি মূল্যবান বলে মনে হয়। ফলে মানুষ বারবার আশা করতে থাকে-হয়তো এবার সব বদলে যাবে। এই আশাই তাকে সম্পর্কের মধ্যে আটকে রাখে। বাস্তবে আঘাতের পর ভালোবাসার যে সাময়িক পর্যায় আসে, সেটিই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।
ট্রমা বন্ডিংয়ের লক্ষণকিছু সাধারণ লক্ষণ দেখে বোঝা যেতে পারে আপনি ট্রমা বন্ডিংয়ের মধ্যে আছেন কি না-
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রমা বন্ডিং থেকে বের হওয়ার প্রথম ধাপ হলো সমস্যাটি চিহ্নিত করা। সম্পর্কে বারবার একই ধরনের কষ্ট ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ ঘটছে কি না, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। নিজের আত্মসম্মান, মানসিক সুস্থতা এবং ব্যক্তিগত সীমারেখাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
ভালোবাসা কখনোই ভয়, নিয়ন্ত্রণ বা বারবার আঘাতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না। একটি সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি হলো সম্মান, নিরাপত্তা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক যত্ন। যদি কোনো সম্পর্কে বারবার কষ্ট পাওয়ার পরও বেরিয়ে আসতে না পারেন, তাহলে সেটি প্রেমের গভীরতা নয়, বরং ট্রমা বন্ডিংয়ের লক্ষণও হতে পারে। তাই নিজের মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পর্ককে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য
আরও পড়ুনসঙ্গীর জন্মদিন ভুলে গেছেন? শেষ মুহূর্তে মন জয় করার উপায় যে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায়এসএকেওয়াই