লাইফস্টাইল

গরমে কিডনির ক্ষতি এড়াতে যা করবেন

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে আমরা সাধারণত হিটস্ট্রোক, ক্লান্তি বা পানিশূন্যতা নিয় বেশি চিন্তা করি। কিন্তু এ সময় সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে কিডনি। শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার ও সুস্থ রাখতে কিডনি দিনরাত কাজ করে। রক্ত পরিশোধন, শরীরের বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়া, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব এই অঙ্গটির ওপরই এসে পড়ে।

Advertisement

তবে প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম বের হওয়ার কারণে কিডনির ওপর চাপ অনেক বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গরমে কেন কিডনির ঝুঁকি বাড়ে?

গ্রীষ্মকালে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি ও খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়। ফলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায় এবং কিডনিকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

ঘন প্রস্রাবের কারণে কিডনিতে খনিজ পদার্থ জমে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পানিশূন্যতায় ভুগলে ‘অ্যাকিউট কিডনি ইনজুরি’ বা হঠাৎ কিডনি বিকলের মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় রোদে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

Advertisement

পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি

কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি পান করা উচিত। গরমের সময় একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাধারণত দিনে ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ব্যক্তিভেদে এই পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।

প্রাকৃতিক পানীয় রাখুন খাদ্যতালিকায়

শুধু পানি নয়, শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতেও কিছু প্রাকৃতিক পানীয় উপকারী। ডাবের পানি, লেবুর শরবত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন জাতীয় পানীয় শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। এগুলো গরমের ক্লান্তি কমাতেও কার্যকর।

প্রস্রাবের রঙের দিকে খেয়াল রাখুন

শরীরে পানির ঘাটতি হচ্ছে কি না, তা বোঝার একটি সহজ উপায় হলো প্রস্রাবের রং পর্যবেক্ষণ করা। সাধারণত হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ রঙের প্রস্রাব স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। যদি প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হয়ে যায়, তাহলে তা পানিশূন্যতার ইঙ্গিত হতে পারে।

খাবারে পরিবর্তন আনুন

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং কিডনির ওপর চাপ কমাতে পানিসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উচিত। তরমুজ, শসা, কমলালেবু, আমলকি এবং অন্যান্য মৌসুমি ফল শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার পরিমিত খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

Advertisement

রোদে কাজ করার সময় সতর্ক থাকুন

দুপুরের তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া দুপুরে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে থাকলে নিয়মিত পানি পান করুন এবং সুযোগ পেলে ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিন।

বিশেষ সতর্কতা যাদের জন্য

যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের গরমের সময় আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। নিজের ইচ্ছামতো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

কিডনি আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। তাই গরমের এই সময়ে সামান্য সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাস কিডনিকে সুস্থ রাখতে এবং বড় ধরনের জটিলতা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: আমেরিকান লাইব্রেরি অ্যান্ড মেডিসিন, ইন্ডিয়া টুডে ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:সুস্থ পরিপাকতন্ত্র ছাড়া সুস্থ জীবন অসম্ভব বেশি মাংস খেয়ে বদহজম? জেনে নিন দ্রুত সমাধান 

এসএকেওয়াই