লাইফস্টাইল

চুমুর অস্বস্তি থেকেই ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন রঘু রাম

ধূমপান ছাড়ার পেছনে কারও থাকে স্বাস্থ্যঝুঁকির ভয়, কারও পরিবারের চাপ। তবে রঘু রামের জীবনে সেই পরিবর্তনের কারণ ছিল এক অস্বস্তিকর মুহূর্ত।

Advertisement

প্রথম ডেটের সময় প্রেমিকার কাছে সিগারেটের গন্ধ ধরা পড়তেই যেন হঠাৎ করেই নিজের অভ্যাসটিকে নতুনভাবে দেখেছিলেন তিনি। দিনে ২০ থেকে ৪০টি সিগারেট খাওয়া মানুষটি এরপর নেন বড় সিদ্ধান্ত, ধূমপানকে চিরতরে বিদায় জানানোর। আর সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে এনে দিয়েছে ধূমপানমুক্ত জীবনের ১০ বছরের সাফল্য।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নিজের এই অর্জনের কথা শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে তিনি জানান, ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছিল তার জীবনের অন্যতম বড় পরিবর্তন। কারণ, নিকোটিনের আসক্তি শুধু শরীর নয়, মানসিকতাকেও গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ধূমপান ছাড়া মানে শুধু একটি অভ্যাস ত্যাগ করা নয়, বরং নিজের সঙ্গে দীর্ঘ এক যুদ্ধ জিতে ফেরা।

আরও পড়ুন অজান্তেই ত্বক বুড়িয়ে দিচ্ছে যে তিন অভ্যাস কেন মানুষ ধূমপান শুরু করে?

অনেকেই মনে করেন, ধূমপান কেবল একটি খারাপ অভ্যাস। কিন্তু বাস্তবে এর পেছনে কাজ করে নানা মানসিক কারণ। কেউ বন্ধুমহলে নিজেকে মানিয়ে নিতে চায়, কেউ কর্মক্ষেত্রের চাপ কমাতে, আবার কেউ একাকীত্ব ঢাকতে ধূমপান শুরু করে।

Advertisement

রঘু রামও স্বীকার করেছেন, তরুণ বয়সে তিনি নিজেকে অন্যদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে চারপাশের মানুষদের দেখে তিনি নিজেও ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রথমে এটি ছিল সামাজিকতার অংশ, পরে সেটিই পরিণত হয় নিকোটিনের গভীর আসক্তিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো-এটি ধীরে ধীরে জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। যেমন খাবারের পর, কফি খাওয়ার সময়, মানসিক চাপের মুহূর্তে কিংবা আড্ডার ফাঁকে সিগারেটের চাহিদা তৈরি হয়। ফলে মানুষ বুঝতেই পারে না, কখন একটি অভ্যাস তার দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন ৪১ বছরেও ফিট থাকার রহস্যে জানালেন রোনালদোর শেফ আসক্তি ছাড়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা

ধূমপান ছাড়তে চাইলেই যে সহজে ছাড়া যায়, বিষয়টি এমন নয়। নিকোটিন শরীরে এমনভাবে প্রভাব ফেলে যে এটি বন্ধ করার পর মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, উদ্বেগ, অস্থিরতা, মনোযোগ কমে যাওয়া কিংবা ঘুমের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

অনেকেই কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধূমপান বন্ধ রাখার পর আবার শুরু করে দেন। কারণ, আসক্তি শুধু শরীরের নয়, মনেরও। তাই ধূমপান ছাড়তে হলে দরকার শক্ত মানসিক প্রস্তুতি এবং সঠিক সমর্থন। রঘু রামের ক্ষেত্রেও বিষয়টি সহজ ছিল না। তিনি একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। কিন্তু জীবনের এক বিশেষ মুহূর্ত তাকে বদলে দেয়।

Advertisement

ভালোবাসা যেভাবে বদলে দিল জীবন

ধূমপান ছাড়ার পেছনে অনেকেরই আলাদা আলাদা কারণ থাকে। কারও জন্য সন্তান, কারও জন্য স্বাস্থ্য, কারও জন্য পরিবার। রঘু রামের জীবনে সেই কারণ হয়ে আসেন তার বর্তমান স্ত্রী নাটালি ডি লুসিও।

প্রথম ডেটেই তিনি বুঝতে পারেন, ধূমপানের গন্ধ অন্য মানুষের কাছে কতটা অস্বস্তিকর হতে পারে। সেই মুহূর্ত তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি উপলব্ধি করেন, শুধু নিজের জন্য নয়, সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের জন্যও তাকে এই আসক্তি ছাড়তে হবে। অনেক সময় জীবনের ছোট একটি ঘটনাই মানুষকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। ধূমপান ছাড়ার ক্ষেত্রেও এমন একটি ব্যক্তিগত উপলব্ধি অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ধূমপান ছাড়ার জন্য কী দরকার?

ধূমপান ছাড়তে কোনো জাদুমন্ত্র নেই। তবে কিছু বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ এই যাত্রাকে সহজ করতে পারে।

একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করুন: ‘একদিন ছাড়ব’ ভাবনা সাধারণত কাজে আসে না। বরং একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া বেশি কার্যকর।

নিজের ট্রিগারগুলো চিনে নিন: কোন পরিস্থিতিতে আপনার ধূমপানের ইচ্ছা বেশি হয়-চাপ, একাকীত্ব, আড্ডা নাকি কফি? এগুলো চিহ্নিত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শুরুর সময়ে প্রলোভন এড়িয়ে চলুন: যে পরিবেশে ধূমপানের ইচ্ছা বাড়ে, অন্তত প্রথম কয়েক সপ্তাহ সেই পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন।

আরও পড়ুন ৪৯ বছরেও এত ফিট শাকিরা? গোপন রহস্য জানলেন প্রশিক্ষক

শরীরচর্চা শুরু করুন: হালকা ব্যায়ামও শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি স্ট্রেস কমায় এবং ধূমপানের আকাঙ্ক্ষাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

নিজের অগ্রগতি অন্যদের জানান: বন্ধু বা পরিবারের সমর্থন ধূমপান ছাড়ার যাত্রায় বড় শক্তি হতে পারে। অন্যরা জানলে নিজের কাছেও দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

ধূমপান ছাড়ার পর কী বদলায়?

ধূমপান বন্ধ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়। ধীরে ধীরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে, শ্বাস নিতে স্বস্তি হয়, খাবারের স্বাদ ভালো লাগে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে থাকে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে আত্মবিশ্বাসে। দীর্ঘদিনের একটি আসক্তিকে জয় করতে পারা মানুষের নিজের প্রতিই বিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

আসক্তির বিরুদ্ধে জয় সম্ভব

ধূমপান ছাড়া কঠিন-এ কথা সত্য। কিন্তু অসম্ভব নয়। একজন চেইন স্মোকারও যদি ১০ বছর ধূমপানমুক্ত থাকতে পারেন, তাহলে অন্যদের পক্ষেও তা সম্ভব। প্রত্যেক মানুষের গল্প আলাদা, কারণ আলাদা, লড়াইও আলাদা। কিন্তু একটি বিষয় সবার জন্যই এক-শুরুটা করতে হয় নিজের সিদ্ধান্ত থেকেই।

ধূমপান ছাড়ার যাত্রা হয়তো একদিনে সহজ হবে না। মাঝপথে ব্যর্থতাও আসতে পারে। তবু আবার শুরু করার সাহসটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতিটি ধোঁয়ামুক্ত দিন মানে নিজের শরীর, মন এবং ভবিষ্যতের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

জেএস/