ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ‘পুশইন’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তসংলগ্ন গ্রামগুলোতে বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।
Advertisement
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সদস্যদের মাইকিং করছেন। একই সঙ্গে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
গত শুক্রবার নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া বিওপির অধীন ১১৮ নম্বর সীমান্ত পিলারের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ছয় ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনসাধারণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
বিজিবি সূত্র জানায়, শেরপুরে মোট ৮টি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) রয়েছে। আর সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যে-কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে তাদের নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনগণকে সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা তৎপরতা নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
Advertisement
ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের ছোট গজনীর বাসিন্দা ডিবিসন সাংমা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় পুশইন আতঙ্ক বেশি দেখা যাচ্ছে। অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে আর পাশাপাশি আমরা যারা সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে থাকি তারাও বিজিবিকে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। সীমান্তে আমরাও নজর রাখছি।
শ্রীবরদী উপজেলার হারিয়াকোনার বাসিন্দা হরমুজ আলী বলেন, বিজিবি মাইকিং করে বলে গেছে এলাকায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে বিওপি অফিসে খবর দিতে। আমরাও পুশইন ঠেকাতে লাঠি ও লাইট প্রস্তুত করে রেখেছি।
সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার-ই-তাসলিমা বলেন, কোনো নাগরিককে আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্ত দিয়ে অন্য দেশে ঠেলে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। পুশইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার পরিপন্থি।
ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে কেউ বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শেরপুর সীমান্ত দিয়ে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
Advertisement
মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে/জেআইএম